তারা কান্দায় কলেজ ছাত্র হত্যার দায়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড, দুই নারীকে সাত বছরের কারাদণ্ড
তারা কান্দায় ছাত্র হত্যায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ড, দুই নারীকে কারাদণ্ড

তারা কান্দায় কলেজ ছাত্র হত্যার দায়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড, দুই নারীকে সাত বছরের কারাদণ্ড

ঢাকার একটি আদালত মঙ্গলবার ২০২১ সালে ময়মনসিংহের তারা কান্দা উপজেলায় এক কলেজ ছাত্র হত্যার দায়ে চার ভাইসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ময়মনসিংহের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। একই সাথে আদালত দুই নারীকে সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিচয় ও শাস্তির বিস্তারিত

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন:

  • ইউনুস আলী (৬২) ওরফে ইউনুস আলী
  • তার ভাই মোহাম্মদ আলী (৫২)
  • গোলাম হোসেন (৫১) ওরফে গুলু
  • শামসুল হক (৪৪)
  • আসিফ রানা নাঈম (২৪)
  • আবদুল হেলিম (৫১)
  • ফরিদ আহমেদ (১৯) ওরফে বাবু

এই সাতজনই তারা কান্দা উপজেলার পলাশকান্দা তনপাড়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের সন্তান বা আত্মীয়। আদালত তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই নারী হলেন মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী খালেদা আক্তার এবং ইউনুস আলীর স্ত্রী রেহেনা খাতুন। তাদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও তদন্ত

অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩১ মে রুমদো ইনস্টিটিউট অব মডার্ন টেকনোলজির (আরআইএমটি) ছাত্র শাহিনুর আলাম ওরফে ইকবাল নিখোঁজ হন। এরপর তার পিতা আবদুর রউফ এ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।

পরে ২০২১ সালের ৫ জুন পুলিশ পলাশকান্দা তনপাড়া গ্রামের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে ইকবালের পচনশীল দেহ উদ্ধার করে। পরের দিন, ৬ জুন, ভুক্তভোগীর ভাই সেলিম মিয়া আসিফ রানা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করেন। পুলিশ নয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে, যা আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই নারীকে কারাদণ্ডের রায় দেন। রায়ে আদালত অপরাধের গুরুত্ব ও প্রমাণের ভিত্তিতে এই দণ্ড নির্ধারণ করেছেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা তারা কান্দা এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল। আদালতের এই রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।