মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল বন্ধে ঢাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ, এখন সরবরাহ বাড়ছে
এলএনজি টার্মিনাল বন্ধে ঢাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ, এখন বাড়ছে

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল বন্ধে ঢাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ, এখন সরবরাহ বাড়ছে

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের মধ্যে একটি আজ মঙ্গলবার সকালে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনার ফলে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দেয়, যা আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করে। তবে, বন্ধ হওয়া টার্মিনালটি মেরামতের পর আবার চালু করা হয়েছে এবং গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা গেছে।

টার্মিনাল বন্ধের কারণ ও প্রভাব

পেট্রোবাংলা সূত্র অনুযায়ী, এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটি আজ সকাল ৬টার সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে এটি আবার চালু করা হয়। এই টার্মিনাল বন্ধ থাকাকালীন সময়ে, জাতীয় গ্রিডে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪০ কোটি ঘনফুট কমে যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য মতে, দিনে সরবরাহ করা গ্যাসের প্রায় ৩৫ শতাংশ এলএনজি থেকে আসে, এবং সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে ৯৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। টার্মিনাল বন্ধের পর এই সরবরাহ কমে ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়, যা সরাসরি গ্রাহক পর্যায়ে চাপের ঘাটতি সৃষ্টি করে।

প্রভাবিত এলাকাসমূহ ও তিতাসের সতর্কতা

গ্যাস সরবরাহ কমার পর, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায় যে, কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকবে। এই এলাকাগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ঢাকার দক্ষিণাংশ, গজারিয়া, মেঘনাঘাট, সোনারগাঁ এবং নারায়ণগঞ্জ। সংস্থাটি উল্লেখ করে যে, একটি টার্মিনাল বন্ধের কারণে তিতাস অধিভুক্ত এলাকাজুড়ে গ্যাস সরবরাহে মারাত্মক স্বল্পচাপ দেখা দিতে পারে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অপর টার্মিনালের ভূমিকা ও বর্তমান অবস্থা

কারিগরি ত্রুটির কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ থাকাকালীন সময়ে, মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট পরিচালিত অপর টার্মিনালটি থেকে পুরো সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ চালু রাখা হয়েছিল। এটি আংশিকভাবে সরবরাহের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। পেট্রোবাংলা আশা করছে যে, মেরামতের পর টার্মিনালটি আবার চালু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুতই স্বাভাবিক হবে এবং গ্রাহকরা আগের মতোই পর্যাপ্ত চাপ পেতে শুরু করবেন। এই ঘটনাটি এলএনজি আমদানির উপর বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে কারিগরি সমস্যার সম্ভাব্য প্রভাবকে উল্লেখযোগ্যভাবে তুলে ধরে।