গুরুতর রোগীদের জমানো টাকা ফেরত বিবেচনায়, একীভূত ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন স্কিম
একীভূত ব্যাংকের রোগীদের জমানো টাকা ফেরত বিবেচনায়

একীভূত ব্যাংকের গুরুতর রোগীদের জন্য জমানো টাকা ফেরতের আশ্বাস

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের যেসকল গ্রাহক গুরুতর রোগে আক্রান্ত, তাদের জমানো টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাগেরহাট-৪ আসনের সাংসদ মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদে উত্থাপিত প্রশ্ন ও অর্থমন্ত্রীর জবাব

সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, “বর্তমানে দেশে বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত অনুমোদিত ব্যাংকের সংখ্যা কত, বিগত সরকারের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে কিছু কিছু ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা চাহিদা মোতাবেক দিতে পারছে না, এই বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে কিনা?” এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশে বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত (বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক) অনুমোদিত ব্যাংকের সংখ্যা ৪৪টি। দুর্দশাগ্রস্ত ৫টি ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত প্রদানের লক্ষ্যে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় ব্যাংক রেজল্যুশন স্কীম ২০২৫ প্রণয়নপূর্বক প্রাথমিকভাবে সুরক্ষিত আমানত হিসেবে প্রত্যেক অপ্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। অবশিষ্ট টাকা স্কিম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গুরুতর রোগীদের জন্য বিশেষ বিবেচনা

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, কিডনি ডায়ালাইসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা ছাড় করা হচ্ছে। অন্যান্য গুরুতর রোগের ক্ষেত্রেও অর্থ ছাড়করণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ব্রেইনটিউমার, হার্ট ও ফুসফুস-সংক্রান্ত অপারেশনসহ বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা অন্তর্ভুক্ত। এই পদক্ষেপটি আর্থিক সংকটে থাকা রোগীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য রাহাত হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একীভূত ব্যাংকগুলোর পটভূমি

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আর্থিক খাত স্থিতিশীল করতে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক গঠন করেছে সরকার। যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে সেগুলো হলো:

  • এক্সিম ব্যাংক
  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (এফএসআইবিএল)
  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)
  • ইউনিয়ন ব্যাংক
  • গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক

এই ব্যাংকগুলোর গ্রাহকেরা তাদের জমানো টাকা ফেরত পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। নতুন স্কিম ও বিশেষ বিবেচনার মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে। সরকারের এই উদ্যোগটি আর্থিক সেক্টরের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।