সংসদ অধিবেশন কক্ষে এমপির খাওয়া-দাওয়ায় স্পিকারের ক্ষোভ, 'পরে আরও কী খাবেন'
সংসদ কক্ষে এমপির খাওয়ায় স্পিকারের ক্ষোভ

সংসদ অধিবেশন কক্ষে এমপির খাওয়া-দাওয়ায় স্পিকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া

জাতীয় সংসদের মূল অধিবেশন কক্ষে বসে এক সংসদ সদস্যের খাওয়া-দাওয়ার ঘটনায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশন চলাকালীন এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে, যা সংসদীয় শৃঙ্খলা ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংসদ সূত্রে জানা যায়, বিকালে অধিবেশন চলাকালে স্পিকার তার চেয়ারে বসে হঠাৎ লক্ষ্য করেন যে এক সংসদ সদস্য কিছু একটা খাচ্ছেন। সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, অধিবেশন কক্ষের ভেতরে চা-পান, ধূমপান কিংবা কোনও ধরনের খাবার খাওয়ার অনুমতি নেই। এই নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় স্পিকার তৎক্ষণাৎ মাইকে প্রশ্ন করে জানতে চান— তিনি চা পান করছেন কিনা।

জবাবে ওই সংসদ সদস্য জানান, তিনি চা নয় বরং 'গরম পানি' পান করছেন। সংসদ সদস্যের এমন উত্তরে স্পিকার কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, "পরে আরও কী খাবেন, গড নোজ।" ক্যামেরায় ওই সংসদ সদস্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংসদীয় বিধি ও শৃঙ্খলা

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩১১ নম্বর বিধি অনুযায়ী, সংসদ কক্ষটি সংসদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছাড়া অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। খাওয়া-দাওয়া বা পানীয় গ্রহণ যেহেতু আনুষ্ঠানিক বৈঠকের অংশ নয়, তাই এই ধরনের কাজ বিধির পরিপন্থি বলে গণ্য হয়। সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা রক্ষায় বিষয়টি সবসময় কঠোরভাবে পালন করা হয়, যা এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এর আগেও অধিবেশন কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার বা খোশগল্প করার কারণে স্পিকারের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার সরাসরি খাবার গ্রহণের ঘটনায় সংসদে হাস্যরসে পরিণত হয়, যা সংসদীয় পরিবেশের গাম্ভীর্য নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্পিকারের ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি অধিবেশন কক্ষে এমন আচরণের সমালোচনা করে সংসদ সদস্যদের মর্যাদা ও নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনা সংসদীয় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।