শরীয়তপুরে পুরোনো কবর থেকে উদ্ধার নিখোঁজ ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ, পরিবার শনাক্ত করেছে
শরীয়তপুরে পুরোনো কবর থেকে উদ্ধার নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ

শরীয়তপুরে পুরোনো কবর থেকে উদ্ধার নিখোঁজ ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চরচটাং গ্রামে এক নিখোঁজ ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ পুরোনো কবর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ এই লাশটি উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া লাশটি নিখোঁজ ব্যক্তি মন্টু ব্যাপারী (৬৬) বলে শনাক্ত করেছে তাঁর পরিবার।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

মন্টু ব্যাপারী শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারীয়া ইউনিয়নের চরচটাং গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ২৬ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। গত ২৭ মার্চ তিনি নিখোঁজ হন এবং তাঁর বোন মিনারা বেগম ১৪ এপ্রিল পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আংগারীয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সুধাংশু সরকার ঘটনাটি তদন্ত করতে গতকাল সোমবার মন্টুর মামাবাড়িতে যান। সেখানে তিনি একটি পরিত্যক্ত ঘরে বড় গর্ত এবং পেছনের দিকে মন্টুর মামা শাহেদ আলী মাদবরের কবর থেকে দুর্গন্ধ পান। পাঁচ বছরের পুরোনো কবর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর সন্দেহে কবরের একটি অংশ খুঁড়ে দেখা হয় এবং সেখানে অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও শনাক্তকরণ

মন্টুর বোন মিনারা বেগম বলেন, 'আমার ভাই নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। পুলিশ আজ আমার মামার কবর খুঁড়ে ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করেছে। চেহারা চেনা যাচ্ছিল না, কিন্তু শরীরের কাপড় দেখে চিনতে পেরেছি। আমার ভাইয়ের জমি ও ঘর বিক্রি নিয়ে ঝামেলা চলছিল, এ কারণে হয়তো তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।'

ঘটনার পর মন্টুর মামাতো ভাই ফারুক ব্যাপারী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান, যা ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, 'কেন, কারা ও কী উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যা করে কবরে রেখেছিল, সে বিষয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। এখনো কোনো মামলা হয়নি।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মঙ্গলবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করে পুলিশ কবর থেকে লাশটি উদ্ধার করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের উপস্থিতিতে বিকেলে লাশটি উদ্ধার করা হয় এবং সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবন ও পটভূমি

মন্টু ব্যাপারীর মা-বাবা মারা গেছেন এবং তিনি মামাবাড়িতে থাকতেন। তিনি বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একাধিক বিয়ে করলেও তাঁর সঙ্গে কোনো স্ত্রী ও সন্তান থাকেন না। এই ঘটনায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও সম্ভাব্য দ্বন্দ্ব তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

পুলিশ এখন ঘটনার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই নতুন তথ্য উঠে আসবে।