জাতীয় গ্যাস সরবরাহে নতুন নির্দেশনা: গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিতে সরকারের চার দফা নির্দেশ
দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মোকাবিলা ও সেবাকে আরও সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক চর্চা বিশ্লেষণ করে যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সেবাসমূহকে গ্রাহকবান্ধব ও সহজীকরণ করার জন্যই এ পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ
সরকারের নতুন নির্দেশনাগুলো নিম্নরূপ:
- গ্যাস সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাস ও প্রতিস্থাপন: গ্যাস সরঞ্জামাদির অনুমোদিত ঘণ্টাপ্রতি লোড অপরিবর্তিত রেখে সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাস ও প্রতিস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানির তালিকাভুক্ত কোনো ঠিকাদার দ্বারা কমিশনিং কাজ সম্পাদন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির অনুমতির প্রয়োজন হবে না, যা প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করবে।
- অব্যবহৃত লোড স্থানান্তর: একই আঙ্গিনায় অবস্থিত এবং একই মালিকানাধীন আরেকটি শিল্প ইউনিটের অব্যবহৃত লোড গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা আঞ্চলিক প্রধানের অনুমোদন সাপেক্ষে স্থানান্তর করতে হবে। এটি শিল্প মালিকদের জন্য গ্যাস ব্যবহারের নমনীয়তা বাড়াবে।
- লোড শ্রেণি পরিবর্তন: একই আঙিনায় অবস্থিত, একই মালিকানাধীন আরেকটি শিল্প ইউনিটে ক্যাপটিভ পাওয়ার শ্রেণিতে কার্যকরকৃত লোড প্রয়োজনে শিল্প শ্রেণিতে স্থানান্তর করা যাবে। তবে, কোনো ক্রমেই শিল্প শ্রেণিতে কার্যকরকৃত লোড ক্যাপটিভ পাওয়ার শ্রেণিতে স্থানান্তর করা যাবে না, যা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
- মিটার স্থাপন ও মান যাচাই: মিটার স্থাপনের ক্ষেত্রে অনধিক সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণ ও বিপণন কম্পানি কর্তৃক স্থাপন পরবর্তী পর্যায়ে গুণগত মান যাচাই করতে হবে। এটি সেবার গতি ও নির্ভরতা উন্নত করবে।
এই নির্দেশনাগুলো কার্যকর হলে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ গ্রাহকদের জন্য সেবা প্রাপ্তিকে আরও সহজ ও দ্রুতগামী করবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



