হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপ
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ করেছেন। এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চীনের অবস্থান: যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধান
সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং স্পষ্টভাবে বলেছেন যে চীন একটি অবিলম্বে ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির পক্ষে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতগুলোর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথে সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
শি জিনপিং সৌদি নেতাকে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক চলাচলের জন্য খোলা থাকা উচিত, কারণ এটি আঞ্চলিক দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করে।’ এই মন্তব্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য চীনের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির প্রতি সমর্থন
চীনের প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেছেন যে, চীন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ‘তাদের ভবিষ্যৎ ও ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নিতে’ সমর্থন করে। তিনি দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
এই ফোনালাপের প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক একটি ইরানি জাহাজ আটকের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই এই ‘জোরপূর্বক আটক’ এর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও চলমান আলোচনা
রোববার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি জাহাজ আটকের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ববর্তী আলোচনায় ইরানকে নিয়ে আসতে সাহায্য করার জন্য ট্রাম্প বেইজিংকে কৃতিত্ব দিয়েছিলেন।
তবে প্রথম দফার আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই চীন-সৌদি ফোনালাপ আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি সম্ভাব্য পথ দেখাচ্ছে। চীনের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে তার ক্রমবর্ধমান ভূমিকারই ইঙ্গিত দেয়।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে পরিচিত। এখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। তাই চীনের এই আহ্বান কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক স্বার্থের সাথেও জড়িত।



