পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কোর ওপর এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলার ঘটনা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্থানীয় সময় অনুযায়ী, রুশ রাজধানীর চারপাশে প্রায় ২০০টি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে ১৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মস্কোর মেয়রের বক্তব্য
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী বড় আকারের হামলা প্রতিহত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কয়েকটি ড্রোন মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া একটি শপিং সেন্টার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আশপাশের এলাকায় বহুতল আবাসিক ভবন, শিল্প স্থাপনা ও কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিমানবন্দর বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিল
হামলার জেরে মস্কোর চারটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়। শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে ইউক্রেনের মোট ৫৫৫টি ড্রোন ও চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কোর দিকে ধেয়ে আসছিল। দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলে একটি তেলের ডিপোতে হামলায় একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও
হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দিনের আলোতে ড্রোন চলাচল ও শিল্পাঞ্চলে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।
জেলেনস্কির কৌশল
সাড়ে চার বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক দূরপাল্লার হামলাগুলো দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ‘যুদ্ধকে জনগণের কাছে নিয়ে আসা’ কৌশলেরই প্রতিফলন। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে এই হামলা পরিচালনার মাধ্যমে কিয়েভ মূলত দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রভাব রাশিয়ার সাধারণ নাগরিকদের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।



