জ্বালানি দাম বৃদ্ধিতে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের তীব্র প্রতিক্রিয়া
জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম এক বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের শিল্প ও কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদনের গতি হ্রাস করবে এবং অর্থনীতিতে চরম সংকট সৃষ্টি করবে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সংকটময় পরিস্থিতি
সোমবার (২০ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ফয়জুল হাকিম আরও উল্লেখ করেন, এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করবে এবং জীবনকে সংকটময় করে তুলবে। তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলো দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের তেল-গ্যাস সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে উপযুক্ত কর্মসূচি নেয়নি।
বিদেশ নির্ভর জ্বালানি নীতির সমালোচনা
ফয়জুল হাকিমের মতে, লুটেরা ব্যবসায়ী শ্রেণির স্বার্থে বিদেশ নির্ভর জ্বালানি নীতির গ্রহণ করায় বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি গভীর সংকটজনক পর্যায়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অন্যদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশন মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণকে কার্যত শোষণ করছে।
দীর্ঘমেয়াদী নীতির অভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের বিবৃতিতে জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাবের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে তেল-গ্যাস সম্পদের সঠিক অনুসন্ধান ও উত্তোলনের অভাবে দেশ আজ বিদেশি জ্বালানির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই নির্ভরশীলতা বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের সময়ে দেশকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
ফয়জুল হাকিমের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু অর্থনীতির উপরই নয়, সামাজিক স্তরেও পড়বে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং দারিদ্র্য বাড়তে পারে।
সংগঠনটি সরকারের কাছে জ্বালানি নীতির পুনর্মূল্যায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করে, স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে নজর দিলে ভবিষ্যতে এমন সংকট থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।



