রংপুরে জ্বালানি তেলের সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন ও হুড়োহুড়ি
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরও রংপুরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের পাশাপাশি ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও গ্রাহকরা জ্বালানি পাচ্ছেন না, যা নগরীর যানবাহন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।
পাম্প মালিকদের বক্তব্য ও সরবরাহ সমস্যা
পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, শনিবার রাতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও ডিপো থেকে আগের মতো রেশনিং পদ্ধতিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না বলে তারা অভিযোগ করেন। সোমবার রংপুর নগরীর ৩৫টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে মাত্র তিনটিতে তেল সরবরাহের খবর পাওয়া যায়, যা সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
গ্রাহকদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভিড়
সকাল ৮টা থেকেই গ্রাহকরা মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। দুপুর ১টার দিকে সেই লাইন প্রায় এক মাইল ছাড়িয়ে যায়, যা নগরীর যানজট বাড়িয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে ও আশপাশে ট্রাক, পিকআপ ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারি দেখা যায়, যার ফলে রাস্তাঘাটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।
হুড়োহুড়ি ও আহতের ঘটনা
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ডিজেল ও অকটেন ছাড়া শুধু পেট্রোল সরবরাহ শুরু হলে ফিলিং স্টেশনে হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ মোটরসাইকেল আরোহী আহত হন, যাদের মধ্যে ইসলাম মিয়া ও নাজমুলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা সংকটের তীব্রতা প্রকাশ করে।
গ্রাহকদের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক আফতাব উদ্দিন বলেন, "তেলের দাম বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিটি পাম্পে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে এভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে নগরীর বাইরের অনেক এলাকাতেও ফিলিং স্টেশন থাকলেও সেখানে তেল না থাকায় সবাই শহরে ভিড় করছেন।
একই অভিযোগ করেন নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার মোটরসাইকেল চালক মমতাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, "ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে এ সমস্যা থাকত না।"
ডিজেল সংকট ও কৃষকদের সমস্যা
এদিকে, যেসব পাম্পে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, সেগুলোতেও ডিজেলের সংকট রয়েছে। ফলে ট্রাক, পিকআপসহ ডিজেলচালিত যানবাহনগুলো তেলের অপেক্ষায় রয়েছে। ডিজেলের অভাবে সেচযন্ত্র চালানো যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন কৃষকরা, যা কৃষি কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
এই সংকট রংপুরের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে, এবং দ্রুত সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।



