দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ক্লিন ও গ্রিন এনার্জির সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) ফ্রেশ এলপি গ্যাসের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শামসুল হক মো. মিরাজ।
উৎপাদন সক্ষমতা ও সরবরাহ চেইন
দেশব্যাপী এলপিজির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ফ্রেশ এলপি গ্যাস দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ২০১৯ সালে ৬ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করে তাদের সক্ষমতা এখন ২০ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। সরবরাহ চেইনে রয়েছে ২টি নিজস্ব এলপিজি জাহাজ (প্রত্যেকটি ২ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন), ৪টি ফিলিং প্ল্যান্ট, মাসে ১ লাখ সিলিন্ডার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্ল্যান্ট, ৩০টি রোড ট্যাংকার এবং ৭টি আঞ্চলিক ও ৩টি সরাসরি বিতরণকেন্দ্রসহ মোট ১০টি বিতরণকেন্দ্র। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাড়ে ছয় মাসে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ এলপিজি আমদানি করেছে ফ্রেশ এলপি গ্যাস।
গ্রিন ও ক্লিন এনার্জি সম্প্রসারণ
গ্রিন ও ক্লিন এনার্জি সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ফ্রেশ এলপি গ্যাস বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ অপারেটর। দেশব্যাপী ৩৫০টির বেশি পরিবেশক ও ২০ হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লাখো গ্রাহককে সেবা দেওয়া হচ্ছে। সিলিন্ডার বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দিয়ে গ্রিন ফুয়েলে রূপান্তর ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। আগামী তিন বছরে নতুন টার্মিনাল স্থাপন, আরও ২টি নতুন এলপিজি জাহাজ সংযোজনসহ প্রযুক্তি ও লজিস্টিকস খাতে বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা ও মূল্য নির্ধারণ
ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও পরিবহন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আঞ্চলিক ডিপো, ডিরেক্ট সেলস পয়েন্ট ও শক্তিশালী পরিবহন নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সময়মতো গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জুন ২০২৬-এর জন্য বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের রিফিল মূল্য ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। পুরো সাপ্লাই চেইনে কঠোর তদারকি করা হচ্ছে এবং টিম নিয়মিত মাঠপর্যায়ে এটি পর্যবেক্ষণ করে। তবে নির্ধারিত মূল্য শতভাগ বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোক্তা অধিকারের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন।
নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা
এলপিজির দুর্ঘটনা এড়াতে ফ্রেশ এলপিজি ইউরোপীয় প্রযুক্তিনির্ভর ক্যারোসেল ফিলিং সিস্টেম ব্যবহার করে, যা প্রতিটি সিলিন্ডারে নির্ভুল পরিমাণ গ্যাস নিশ্চিত করে। বাজারে ছাড়ার আগে প্রতিটি সিলিন্ডার এক্স-রে, হাইড্রো, কেমিক্যাল টেস্টসহ বিভিন্ন কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যায়। নিরাপত্তা কেবল একটি পূর্বশর্ত নয়, এটি ভোক্তার আস্থার মূল ভিত্তি।
নীতিগত ও শুল্ক সংস্কার
পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নে নীতিগত ও শুল্ক সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমানে সিলিন্ডারের কাঁচামাল আমদানিতে মোট ২৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে, যা এই খাতের সম্প্রসারণে বড় বাধা। সুপারিশ হলো, কাস্টম ডিউটি ৫ শতাংশ রেখে সম্পূর্ণ ভ্যাট ও এআইটি প্রত্যাহার করা। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস পাবে। সরকারের নীতি সহায়তা বাস্তবায়িত হলে আগামী ৫-১০ বছরে এলপিজি দেশের জ্বালানি অবকাঠামোর অন্যতম ভিত্তি হবে।



