পল্লবী এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় বহুল আলোচিত রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ এবং ভুক্তভোগীর বাবা উভয়েই আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, 'অপরাধী শাস্তি পেয়েছে; আমি সন্তুষ্ট।'
আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া
রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ বলেন, আসামিরা তাদের জবানবন্দিতে অপরাধ স্বীকার করেছে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে দেওয়া বিবৃতিতেও তারা দোষ স্বীকার করেছে। তিনি দুই আসামির ফাঁসির রায়ের প্রসঙ্গে বলেন, 'ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।'
ভুক্তভোগীর পরিবারের প্রতিক্রিয়া
এর আগে, ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা রায়ের পর তৎক্ষণাৎ স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, আমি রায়ে শতভাগ সন্তুষ্ট। আমি ঠিক এটাই আশা করেছিলাম। আমি আশা করি সাজা দ্রুত কার্যকর হবে।'
তিনি পরিবারের দুর্দশার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং এখন রায় দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আদালতের রায়
ঢাকার একটি আদালত পল্লবী এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফাঁসির সাজা দিয়েছে। রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সলেকিন এই রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক সকাল ১১টা ৫ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন। সাক্ষী ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির সাজা ও অর্থদণ্ড দেয়।
আদালত আরও নির্দেশ দেয় যে, আসামিদের ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর পরিবারকে প্রদান করতে হবে। এছাড়া, আসামিরা জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে জেলা কালেক্টর তাদের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা নেবেন।



