বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। ২০২২ সালের তুলনায় এই হার বেড়েছে। বিবিএসের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে মোট শ্রমশক্তির সংখ্যা ৬ কোটি ৯৮ লাখ, যার মধ্যে ৩ কোটি ৬৪ লাখ পুরুষ ও ৩ কোটি ৩৪ লাখ নারী।
বেকারত্বের হার বৃদ্ধির কারণ
প্রতিবেদনে বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক মন্দা ও করোনা মহামারীর প্রভাবকে দায়ী করা হয়েছে। বিবিএসের মহাপরিচালক মো. মতিয়ার রহমান বলেন, 'করোনা মহামারীর পর অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি তেমন বাড়েনি। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না।'
নারী ও পুরুষ বেকারত্বের হার
জরিপে দেখা গেছে, পুরুষদের বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং নারীদের বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। নারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, যা শহরাঞ্চলের ৪ দশমিক ৮ শতাংশের চেয়ে বেশি।
তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব
তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে উদ্বেগজনক। ১৫-২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। এই বয়সী শিক্ষিত তরুণদের চাকরি না পাওয়ার প্রবণতা বেশি। বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা স্নাতক বা তার বেশি ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেশি।
কর্মসংস্থানের খাত
দেশে সর্বোচ্চ কর্মসংস্থানের খাত হলো কৃষি, যেখানে ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ শ্রমিক কাজ করেন। এরপরেই রয়েছে সেবা খাত (৩৭ দশমিক ২ শতাংশ) এবং শিল্প খাত (২৪ দশমিক ২ শতাংশ)। তবে শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের হার কমেছে, যা বেকারত্ব বাড়ার অন্যতম কারণ।
সরকারের পদক্ষেপ
সরকার বেকারত্ব কমাতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে 'একশ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প', 'যুব উন্নয়ন প্রকল্প' এবং 'প্রশিক্ষণ কর্মসূচি'। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেকারত্ব কমাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, 'বেকারত্ব কমানোর জন্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিতে হবে।'
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের বেকারত্বের হার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। ভারতে বেকারত্বের হার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, পাকিস্তানে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের বেকারত্বের হার উদ্বেগজনক কারণ দেশের তরুণ জনসংখ্যা বাড়ছে।



