সুনামগঞ্জ জেলার উজানে ভারতে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। এই ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আজ রোববার সকালে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের তিনটি স্থান প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানি নামার সুবিধার্থে ওই তিনটি এলাকার সড়ক তুলনামূলক নিচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানগুলো হলো—সড়কটির বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দুর্গাপুর, শক্তিয়ারখলা ও তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর।
উজানে ভারী বৃষ্টি, নদীর পানি বাড়ছে
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জে ও উজানে দুটি স্থানেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমাসহ সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। পানি আরও বাড়বে। তবে এখনো সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে আছে।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জে গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে জেলার উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৩২০ মিলিমিটার ও মৌসিনরামে ৫২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। উজানের এই দুটি স্থানে বেশি বৃষ্টি হলেই সুনামগঞ্জে ঢল নামে।
সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছে
সুরমা নদীর পানি আজ সকাল ৯টায় শহরের ষোলঘর পয়েন্টে ছিল ৭ দশমিক ২০ মিটার। বেলা তিনটায় সেটা বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৪০ মিটার। এখানে বিপৎসীমা ৭ দশমিক ৮০ মিটার। পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে বিপৎসীমা অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছেন পাউবো কর্মকর্তারা।
স্থানীয়দের দুর্ভোগ
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান এরশাদ মিয়া জানান, গতকাল রাতে ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ি ঢল নামছে। আজ সকালে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা ও দুর্গাপুর এলাকার বেশ কিছু অংশ তলিয়ে যায়। সড়কের ওপর দিয়ে স্রোত যাচ্ছে। তাই যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ঢল নামলে শক্তিয়ারখলার এই সড়ক সবার আগে ডুবে। এতে লোকজন দুর্ভোগে পড়েন।
সড়কের আনোয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা সাইদুর রহমান জানান, ঢলের পানিতে রক্তি নদ টইটম্বুর। নদীর পানি উপচে সড়ক প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে পানি নেমে যাবে।
বন্যার আশঙ্কা
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা নদীর তীরের ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা আকরাম উদ্দিন বলেন, এক রাতেই সুরমা নদীর পানি অনেক বেড়ে গেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বন্যা হয়ে যেতে পারে। বৃষ্টি তো থামছেই না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। এতে জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।



