আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা থাকায় নতুন বাজেটে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজেটে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি
আগামী বাজেটে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি দল সচিবালয়ে বুধবার রাতে নতুন বাজেটের সার্বিক দিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করে। প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
সৃজনশীল অর্থনীতি মূলধারায় আনার পরিকল্পনা
বৈঠকে 'সৃজনশীল অর্থনীতি'র বিভিন্ন দিককে মূলধারার অর্থনীতিতে আনার পরিকল্পনা পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করা হবে আগামী ঈদের পর ১১ জুন। বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে আগামী বাজেটে বরাদ্দ রাখার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য
বুধবারের বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী কোনো কথা বলেননি। গত মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক কমিটির বৈঠকে বড় বাজেটের পক্ষে তিনি বলেছিলেন, বাজেট বড় করা না হলে কেউ বিনিয়োগ করতে আসবেন না। আবার উন্নয়ন বাজেটও বাড়াতে হবে, নয়তো মোট দেশজ উন্নয়নের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে না।
বাজেটে দ্বৈত চাপ
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাজেটে নির্বাচনী ইশতেহার যেমন গুরুত্ব পাচ্ছে, তেমনি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর শর্ত-প্রত্যাশাও। ফলে বাজেটে একধরনের দ্বৈত চাপ তৈরি হয়েছে—জনগণকে স্বস্তি দেওয়া এবং উন্নয়ন-সহযোগীদের সন্তুষ্ট রাখা। নতুন সরকার চলতি অর্থবছর থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি খাতকে সম্প্রসারণ করার পদক্ষেপ নিয়েছে, আগামী অর্থবছরে যা আরও সুসংহত রূপ পাবে।
সামাজিক কর্মসূচি সম্প্রসারণ
সূত্র আরও জানায়, সামাজিক বিভিন্ন কর্মসূচির ভাতা ও উপকারভোগী বৃদ্ধির বিষয়ে ঘোষণা থাকবে আগামী বাজেটে। বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, আর ঘাটতি ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী বাজেটে সুদ পরিশোধে ব্যয় ধরা হতে পারে দেড় লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার তিন লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী এক বৈঠকে সেই ধারণা দিয়েছেন।
মূল্যস্ফীতি ও ভর্তুকি
আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে ৭ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ। আর বিদ্যুৎ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার, খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি (ওএমএস), ফ্যামিলি কার্ড ইত্যাদি খাতে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে রাখা হতে পারে।
জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য
আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হারের চিন্তা করা হচ্ছে ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার বিশ্বব্যাংকের মতে ৪ দশমিক ৬, আইএমএফের মতে ৪ দশমিক ৭ এবং এডিবির মতে হবে ৪ শতাংশ।



