আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সম্পদ কর চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়কর আরোপের চিন্তাও করা হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের করের চাপ কমানো এবং করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমানের ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ধীরে ধীরে ৪ লাখ টাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় সচিবালয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন নির্দেশনা দিয়েছেন। এনবিআর সূত্রে এ কথা জানা গেছে।
বাজেটের আকার
আগামী অর্থবছরের বাজেট হতে যাচ্ছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি। জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট পেশ করা হবে আগামী ১১ জুন।
বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে অপ্রদর্শিত অর্থ ও বিশেষ বিনিয়োগ সুযোগ সম্পর্কিত বিধানগুলো নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে আগামী অর্থবছর থেকে ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক ছাড়ের সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। এ ছাড়া আগামী বাজেটে তামাকজাত পণ্য ও বিদেশি মদের দাম বাড়তে পারে। এতে রাজস্ব বাড়বে এবং মানুষের ভোগ কমবে।
পরিবেশবান্ধব প্রণোদনা
জানা গেছে, চলমান জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় বৈদ্যুতিক যানবাহন ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব পরিবহনের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সম্পদ করের নির্দেশনা
সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে সম্পদ করের প্রস্তাব এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। এর মাধ্যমে উচ্চ আয়ের গোষ্ঠীকে আরও কঠোর নজরদারির মধ্যে আনতে হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীকে যতটা সম্ভব কম কষ্ট দেওয়া।
টার্নওভার কর ও করছাড়
জানা গেছে, টার্নওভার কর বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের; বরং করের আওতা বাড়ানোই সরকারের মূল লক্ষ্য। করছাড়ের পাশাপাশি পরিবেশগত বিষয়ও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আর্থিক ও করনীতি যেন পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নকে সহায়তা করে—এ বিষয়ে জোর দিতে বলেছেন।
মোটরসাইকেল ও গাড়ির কর
মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির জন্য বার্ষিক কর ১ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির জন্য ৩ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিলাসবহুল গাড়ির ক্ষেত্রে (৩,৫০০ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতা) অগ্রিম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ১,৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২৫ হাজার টাকার অগ্রিম আয়কর অপরিবর্তিত থাকবে।



