বাহুবলী নামের ষাঁড়টিকে শান্ত রাখতে গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন খামারি রিপন খান। গতকাল বুধবার বিকেলে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া এলাকায় দেখা যায়, সাদা-কালো রঙের ষাঁড়টি এমনিতে বেশ শান্ত স্বভাবের। তবে নতুন কোনো মানুষ দেখলে একটু ক্ষেপে যাওয়ার বদভ্যাসও আছে। খামারির দাবি, এটিকে বাইরে বের করতে অন্তত ১০-১২ জনের সহায়তা লাগে। এ জন্য আগে থেকেই মানুষ জোগাড় করে রাখতে হয়।
বাহুবলীর আকার ও বৈশিষ্ট্য
প্রায় ২৮ মণ ওজন, ১৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৬ ফুট উচ্চতার এই বিশাল গরুর নাম রাখা হয়েছে বাহুবলী। এর দেখা মিলছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া মিনাপাড়ার ‘রাহুল-রিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’ নামের একটি খামারে। খামারটির মালিক রিপন মিয়া জানান, এবারের ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টিকে বিক্রির উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে।
খামারের পরিবেশ
কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া মিনাপাড়ায় গতকাল বুধবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, রিপনের বাড়ির উঠানেই ছোট ছোট তিনটি গোয়ালঘর। এতে শুয়ে, বসে ও দাঁড়িয়ে আছে ২২টি ষাঁড়। এর মধ্যে ২১টি সাহিওয়াল ও একটি ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল। সবগুলোকেই কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, দেখতেও বেশ পরিপুষ্ট। তবে আলাদা করে নজর কাড়ছে ‘বাহুবলী’।
ওই সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ষাঁড়টিকে শান্ত রাখতে বালতি ভরে ভরে পানি এনে গোসল করাচ্ছিলেন রিপনের স্ত্রী রোজিনা পারভিন।
খামারের ইতিহাস
পরিবার সূত্রে জানা যায়, খামারটির যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে। রিপনের দুই সন্তানের নামানুসারে এর নাম রাখা হয় ‘রাহুল-রিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’। প্রায় আড়াই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাট থেকে বাহুবলীকে কিনে খামারে এনেছিলেন রিপন। তখন এটির ওজন ছিল ২০০ কেজি। স্নেহ, যত্ন আর পুষ্টিকর খাবার পেয়ে ধীরে ধীরে বেড়েছে ষাঁড়টির গড়ন। বিশাল দেহের কারণে ভালোবেসে নাম রাখা হয় ‘বাহুবলী’। প্রতিদিন ষাঁড়টির পেছনে ব্যয় হয় ৮০০-৯০০ টাকা।
বিক্রির পরিকল্পনা
রিপন বলেন, ‘বর্তমানে বাহুবলীর দাঁত দুটি। আর ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি। ১০ লাখ টাকা হলে গরুটি বিক্রি করব। আমি চাই, নির্ধারিত বাজরমূল্যে বাহুবলীকে নড়াইল-১ আসনের এমপি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস কিনুক। এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে কথা বলব। তিনি কিনলে খুশি হব।’
দর্শনার্থীদের ভিড়
ষাঁড়টিকে দেখতে প্রায় প্রতিদিনই খামারে ভিড় করেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কেউ মুঠোফোনে ছবি তোলেন, কেউ ভিডিও করেন, আবার কেউ দাঁড়িয়ে অবাক দৃষ্টিতে দেখেন বাহুবলীর বিশাল দেহ। গতকাল ষাঁড়টিকে দেখতে আসেন নড়াইল শহরের দুর্গাপুর এলাকার সিফাত কাজী। তিনি বলেন, ‘আমি জীবনে অনেক গরু দেখেছি, পালনও করেছি। তবে এত বড় গরু আগে কখনো দেখিনি। গরুটি দেখতে যেমন সুন্দর, ঠিক তেমনই বড় ও শান্ত।’
সোহেল রানা নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘আমরা দেখতি আসছি অনেক দূরে থেকে। দেখলাম, আসলেই খুব বড় গরু। আমার সামনে এখনো এত বড় গরু পড়েনি।’
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মতামত
ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল জাতের বাহুবলীকে জেলার সবচেয়ে বড় গরু উল্লেখ করে নড়াইলের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করছি, খামারি ন্যায্যমূল্য পাবেন, যাতে ভবিষ্যতে তিনি আরও আগ্রহ বোধ করেন। খামারটিতে তিনি প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালনপালন করছেন বলেই জেনেছি।’



