শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হতে ৬ থেকে ৯ মাস সময় লাগবে
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে আরও ৬ থেকে ৯ মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার (১১ মার্চ ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও বাস্তবায়ন পর্যালোচনা
প্রধানমন্ত্রী প্রথম বৈঠকেই থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখেছি, সব প্রক্রিয়া শেষ করে এটি চালু করতে অন্তত ৬ থেকে ৯ মাস সময় প্রয়োজন। আশা করছি ৯ মাসের মধ্যেই এটি পুরোপুরি সচল হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে এই সময় লাগবে।
চীনের সঙ্গে পর্যটন ও ফ্লাইট বৃদ্ধির আলোচনা
বৈঠকে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে চীনের বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পর্যটন উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হলেও তার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। চীন এখন সেই চুক্তি বাস্তবায়নে পুনরায় আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করতে চায় চীন।
তিনি আরও বলেন, চীনা বিনিয়োগকারীরা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত নিয়ে একটি ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ বা সম্ভাব্যতা যাচাই করতে চায়। কীভাবে এটিকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের উপযোগী করে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে তারা প্রস্তাব দেবে। যদি প্রস্তাবটি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হয়, তবে সরকার তা বিবেচনা করবে।
ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধির প্রস্তাব
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বর্তমানে চীনের সঙ্গে সপ্তাহে ১২টি ফ্লাইট চালু রয়েছে। চীন আরও ৩টি অতিরিক্ত ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সি চেয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফ্লাইট গুয়াংজুতে এবং একটি বেইজিং রুটে পরিচালনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাদের লিখিত আবেদন করতে বলেছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদনটি এলে সিভিল এভিয়েশন তা যাচাই করে অনুমতি দেবে। এতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।’
পিপিপি মডেলে বিনিয়োগের আগ্রহ
চীনের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময় এসব বিষয়ে আলোচনা হলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। বর্তমান সরকার বিনিয়োগের পরিবেশ যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
এই আলোচনাগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পর্যটন খাতের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
