মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে: মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে

মোংলা বন্দরের উন্নয়নে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, মোংলা বন্দরকে আরও ভালোভাবে চালানোর জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এই বন্দরকে একটি পরিপূর্ণ সফল সামুদ্রিক বন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। এটি হলে জাতীয় অর্থনীতি, আমদানি ও রপ্তানিতে এই বন্দর বড় ভূমিকা রাখবে।

বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা

মন্ত্রী আরও বলেন, মোংলা বন্দরের অল্প কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এটিকেও চট্টগ্রাম বন্দরের মতো সফল-সক্ষম বন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়। তাই আমরা মোংলা বন্দরের সক্ষমতার শতভাগ ব্যবহার করতে চাই। আজ শনিবার দুপুরে মোংলা সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

এ সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানসহ মোংলা বন্দরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী চুক্তি পর্যালোচনা

বিগত সরকারের আমলে মোংলা বন্দরসংক্রান্ত হওয়া চুক্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ওই চুক্তিগুলো পরীক্ষা–নিরীক্ষা করব। যদি দেশের স্বার্থ রক্ষা করে হয়, আমাদের জন্য সহায়ক হয় তাহলে নিশ্চিতভাবে সেগুলো করা যাবে। সবকিছুর আগে আমাদের বাণিজ্য, অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব, সমৃদ্ধি প্রাধান্য পাবে। সর্বোপরি আমাদের ন্যায্যতা যেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটা অবশ্যই থাকবে। আর যেখানে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, সেটা রাখা যাবে কি না, তা বিবেচনা করা হবে। আর রাখা না গেলেও তার একটা কার্যপদ্ধতি আছে, সেটা মেনেই আমাদের যা করার তা করতে হবে।’

রেলপথের উন্নয়নের অঙ্গীকার

বন্দরের সুবিধার্থে রেলপথকে আরও গতিশীল করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, খুলনা-মোংলা রেললাইন হয়েছে। এখন এখানে পর্যাপ্ত কোচ ও ইঞ্জিন নেই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে একাধিক ট্রেন এই পথে চালু করা হবে।

রেল খাতের সমস্যা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে একটা জরাজীর্ণতা ছিল। রেললাইন মেরামতের দরপত্র একসময় হচ্ছে, ইঞ্জিন আনার দরপত্র একসময় হচ্ছে, কোচ আনার দরপত্র একসময় হচ্ছে। তাই রেললাইন তৈরি হয়ে বসে আছে, কোচ ও পর্যাপ্ত ইঞ্জিন এখনো আসেনি। আমরা আগামীতে যেসব রেললাইন চালু করব, রেললাইন কদিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হবে, সেটা যেমন জানব। সেই সময়ের মধ্যে ইঞ্জিন ও কোচ এনে রেললাইন হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতে লাইন চালু করা যায়, সেটা বিবেচনায় রেখে পরবর্তী কার্যক্রমগুলো হবে।’

মন্ত্রীর এই ঘোষণা মোংলা বন্দরের উন্নয়নে নতুন গতি আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বন্দরটির সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।