বিমানের ওভারটাইমে তুঘলকি কারবার, মাসে গচ্চা দেড় কোটি টাকা
বিমানের ওভারটাইমে অনিয়ম, মাসে গচ্চা দেড় কোটি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওভারটাইম ডিউটি নিয়ে চলছে তুঘলকি কারবার। ওভারটাইম ডিউটি করতে এসে কেউ ঘুমাচ্ছেন রেস্ট রুমে, আবার কেউ মসজিদে। অনেকে আবার উপস্থিতির সই দিয়ে চলে যান। এতে ওভারটাইম ডিউটির নামে মাসে অতিরিক্ত প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো গচ্চা দিতে হচ্ছে বিমানকে। অভিযোগ আছে, বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এ অনিয়ম।

সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল অনিয়ম

সম্প্রতি বিমানের হ্যাঙ্গারের প্রকৌশল বিভাগের সিসিটিভির মনিটরিং ফুটেজে ঘুমের দৃশ্য দেখার পর ছবি তুলে তা গ্রুপে দেওয়া হয়। এতে করে ফাঁস হয়ে যায় ওভারটাইমের নামে এই অনিয়ম। ঘুমের ছবি নিয়ে এখন বিমানে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এমনকি গত জুন মাসের ওভারটাইমের বিল দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও পরিচালক চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার সৈয়দ মইন উদ্দীন। পরে তার আপত্তির কারণে বিল কমানো হয়। বিমানের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রকৌশল শাখায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল শাখার হ্যাঙ্গার ইউনিটে ওভারটাইম ডিউটির প্রয়োজন না হলেও একশ্রেণির কর্মকর্তার কারণে এ নিয়ম চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে তিন শিফটে আসা কর্মীরা বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটান। আবার কেউবা হাজিরা দিয়ে চলে যান। এমনকি বিষয়টি কেউ খোঁজও রাখেন না। প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন কর্মী এই ‘ওভারটাইম সিস্টেমে’র সুবিধা নিচ্ছেন।

সূত্র আরও জানায়, দিনের পর দিন এই সিস্টেমে বিমানের প্রায় কোটি টাকার ওপরে গচ্চা যাচ্ছে। সরকার যেখানে কৃচ্ছ্রতা সাধনের ওপর জোর দিচ্ছে— সেখানে এই অতিরিক্ত টাকা ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি সিসিটিভি ফুটেজের ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় চলছে। বিমান কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গ্রুপে ওভারটাইমে এসে ঘুমিয়ে থাকার ছবি শেয়ারের পর থেকেই চলছে তোলপাড়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, হ্যাঙ্গার ইউনিটে তিন শিফটে ২৫ থেকে ৩০ জন করে স্টাফ ওভারটাইম করেন। রাতের বেলায় এসে কাজ না করে তারা কেউ রেস্ট রুমে, কেউবা মসজিদে ঘুমিয়ে সময় পার করেন।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে রাতের শিফটে ৮ নম্বর গেট দিয়ে বিমানের গাড়িতে করে প্রবেশ করেন তারা। এরপর কেউ কেউ শুধু ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে ওই গাড়িতেই চলে যান। আবার অনেকে ঘুমিয়ে সময় কাটিয়ে দেন। এই এলাকায় ৫টি রেস্ট রুম ও একটি মসজিদ রয়েছে। তারা সেখানে ঘুমান। সিসিটিভির ক্যামেরায় এমন দৃশ্য ধরা পড়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিমানের এই কর্মকর্তা জানান, একেকজনের মাসে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ওভারটাইমের বিল হয়। সব মিলিয়ে বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো।

তিনি বলেন, জুন মাসে খোদ ডিএমডি এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করে বিমানের আরেক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি জানার পর অবাক হয়েছি। বিমানের টাকা কীভাবে অপব্যয় হচ্ছে, এটি তার জ্বলন্ত উদাহরণ। মাসে দেড় কোটি টাকা তো কম না। কারা, কীভাবে এতদিন ধরে জঘন্য অনিয়ম করে আসছে, তার তদন্ত হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, সরকার যখন কৃচ্ছ্রসাধনের দিকে যাচ্ছে, সেখানে এই অনিয়ম চলতে দেওয়া যায় না। ডিউটি না করে টাকা নেওয়া জালিয়াতির শামিল।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ''বিমানের প্রত্যেক বিভাগে কন্ট্রোলিং অফিসার আছেন। যেহেতু এ ধরনের একটি বিষয় সামনে এসেছে, সেহেতু সেখানকার কর্মকর্তারা এটা দেখবেন। সর্বোপরি আমাদের ম্যানেজমেন্ট এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত দেবেন।''