বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন শেষ হতেই লাগেজ পেতে চান প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত
বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে একটি নতুন পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীরা যাতে তাদের লাগেজ পেয়ে যান, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে প্রবাসী যাত্রীদের লাগেজের জন্য এক-দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে না হয় এবং তারা যেন কোনো দুর্নীতির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা হবে।
পরিকল্পনা ও লক্ষ্য
বিএনপি সরকারের প্রথম দিন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মিল্লাত এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, "আমাদের পরিকল্পনা হলো একজন যাত্রী ইমিগ্রেশন শেষ করতে করতেই যাতে তার লাগেজ বেল্টে পেয়ে যান। সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে বসে আমরা এমন এক পরিবর্তন আনব, যাতে মানুষ একটি নতুন অভিজ্ঞতা পায়।" জামালপুর-১ আসনের এমপি মিল্লাত আরও বলেন, "আমরা তো পরিকল্পনা শুরু করেছি। শুধু টিকেটিং নয়, আমাদের সঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এবং সচিব সাহেবও আছেন।"
বিমানবন্দর সংস্কার ও সিন্ডিকেট ভাঙার প্রতিশ্রুতি
প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বিমানবন্দরকে ঢেলে সাজানোর কথা উল্লেখ করে বলেন, "আমরা বিমানবন্দরকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই, যাতে শুধু টিকেটিং নয়—সিন্ডিকেট তো আছেই—লাগেজ হ্যান্ডেলিং থেকে শুরু করে প্রবাসী যাত্রীরা এসে যে ভোগান্তিতে পড়েন, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।" টিকেট সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তিনি বলেন, "আমি অনেক ক্ষেত্রে শুনেছি যে বিমান খালি যাচ্ছে, কিন্তু মানুষ টিকেট পাচ্ছে না। এগুলোর পেছনেও সিন্ডিকেট আছে। আমরা কেবল দায়িত্ব গ্রহণ করলাম, তবে সমস্যাগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত এবং এগুলো নিরসনে পরিকল্পনা তৈরি করেছি।"
পরিবর্তনের সময়সীমা ও পর্যটন উন্নয়ন
সদ্য দায়িত্ব পাওয়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগির যাত্রীরা ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তন দেখতে পাবেন। তিনি বলেন, "আমরা চেষ্টা করব আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই যেন মানুষ পরিবর্তনের একটি আভাস পায়।" এক প্রশ্নের জবাবে মিল্লাত বলেন, "এখনো পুরো সেক্টর দুর্নীতিমুক্ত হয়নি, আর সেটি ঠিক করার জন্যই আমাদের চেষ্টা চলছে। আমরা এখন সচিব ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসব এবং আলোচনা করব। বিশেষ করে পর্যটন নিয়ে আমাদের সুদূরপ্রসারী চিন্তা আছে।"
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিমানবন্দরের সেবা মানোন্নয়ন এবং যাত্রীদের সুবিধা বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী মিল্লাতের এই ঘোষণা প্রবাসী ও অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য একটি ইতিবাচক সংবাদ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
