নতুন সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা: বিনিয়োগে আস্থা ফেরাতে হবে
নতুন সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা: আস্থা ফেরাতে হবে

নতুন সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা: বিনিয়োগে আস্থা ফেরাতে হবে

দেশের বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। আস্থার সংকটে ভুগছিলেন ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। নতুন সরকার গঠনের পর তাদের প্রথম ও প্রধান দাবি হলো, এই আস্থার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করা।

আস্থাহীনতার পটভূমি

গত কয়েক বছরে দেশে বিনিয়োগের গতি মন্থর হয়ে পড়েছিল। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা সরকারি নীতিমালা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় হতাশ হয়ে পড়েন। এই আস্থাহীনতা বিনিয়োগ স্থবিরতার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারের প্রতি প্রত্যাশা

একজন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন সরকারের কাছে প্রথম প্রত্যাশা হলো, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এমন কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা, যাতে হারানো আস্থা ফিরে আসে। সরকার চাইলেও রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবে উদ্যোক্তাদের মনে এই বিশ্বাস জাগানো জরুরি যে সরকার বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে আন্তরিক।

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, মর্নিং শোজ দ্য ডে সরকারকে শুরু থেকেই এই প্রতিফলন দেখাতে হবে। ব্যবসায়ীরা বেআইনি সুযোগ-সুবিধা চান না, বরং নিয়মনীতির চর্চা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করতে চান।

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ

ব্যবসা-বাণিজ্যকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা উচিত নয়। প্রকৃত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কোনো রাজনৈতিক আনুগত্য থাকে না। সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দলীয় আনুগত্যের সমান নয়। অতীতে দেখা গেছে, ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেক সরকার তাদের ওয়াদা বাস্তবায়ন থেকে সরে গেছে। নতুন সরকারের উচিত হবে এই প্রবণতা পরিবর্তন করা।

জরুরি সমস্যা ও সমাধান

বর্তমানে দেশের শিল্পকারখানা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভুগছে, যা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। স্থায়ী সমাধান সময়সাপেক্ষ হলেও এলএনজি আমদানি বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সাময়িক সমাধান সম্ভব।

বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক গতি

দেশের উদ্যমী জনগোষ্ঠী ও উদ্যোক্তাদের কর্মশক্তি কাজে লাগাতে সরকারের করণীয় হলো সমস্যার সমাধান করা। তাহলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসবেন। বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। সরকারের কাছে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নত পরিবেশ এবং বাধা দূর করার পদক্ষেপ চাওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি ফেরানোর কোনো বিকল্প নেই। নতুন সরকার জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে গঠিত হয়েছে, তাই জনগণের সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।