বিদেশি অনুদানের ফাঁদে ফরিদগঞ্জে ১৩ লাখ টাকা প্রতারণা
বিদেশি অনুদানের ফাঁদে ফরিদগঞ্জে ১৩ লাখ টাকা প্রতারণা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিদেশি সংস্থার অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন এলাকার সহজ-সরল মানুষের কাছে গিয়ে বিদেশি সংস্থার পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত এবং প্রতিটি নামের বিপরীতে পণ্যসামগ্রী দেওয়ার কথা বলত। অনুদান পাওয়ার শর্ত হিসেবে প্রতিটি নামের বিপরীতে ৩ হাজার টাকা করে জমা নেওয়া হতো। এভাবেই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে প্রতারক চক্রের তিন সদস্য। চক্রের সদস্যরা গা ঢাকা দেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এই তথ্য বেরিয়ে আসে।

প্রতারক চক্রের সদস্যরা

জানা গেছে, ঢাকার কেরানীগঞ্জের শাজাহান মিয়ার ছেলে মাসুম (৩৩), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মোস্তফার ছেলে ইয়াছিন মোস্তফা পায়েল (২৬) ও একই এলাকার শুক্কুর আলীর মেয়ে পলি (৪৯) ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরে কয়েক মাস পূর্বে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বিদেশি অনুদানে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রি বিতরণের লোভনীয় অফার দেয়। তারা উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী-পুরুষদের কাছ থেকে এন্ট্রি ফি বাবদ জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা করে আদায় করে।

প্রতারণার কৌশল

এই টাকার বিনিময়ে তারা প্রতিমাসে গরুর মাংস ২.৫ কেজি, বয়লার মুরগি ৫ কেজি, সয়াবিন তেল ৫ লিটার, চিনি ২.৫ কেজি, আটা ২.৫ কেজি, মসুর ডাল ২.৫ কেজি, মুগ ডাল ২.৫ কেজি, বুটের ডাল ২.৫ কেজি এবং আতপ চাল ২.৫ কেজি প্রদানের আশ্বাস দেয়। কয়েকবার তারা এই পণ্য সরবরাহও করে, যার ফলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস জন্মে। এই প্রলোভনে পড়ে কয়েকশত লোক ওই প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে। রোববার (২৪ মে) ওই প্রতারক চক্রটি পালিয়ে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে ভুক্তভোগী নারী-পুরুষরা ওই বাসার সামনে হাজির হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগীদের তালিকা

সরেজমিনে গিয়ে অন্তত ১৫ জন ভুক্তভোগীর নাম পাওয়া যায়, যারা একাধিক নামে হাজার হাজার টাকা জমা দিয়েছেন অনুদান পাওয়ার আশায়। এর মধ্যে মো. আজাদ ৬০ নামে ২ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা, খুকি বেগম ১৬৬ নামে ৫ লক্ষ টাকা, পারভীন বেগম ৪০ নামে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, হানিফ হাওলাদার ২৭ নামে ৭০ হাজার টাকা, ফাতেমা বেগম ১০ নামে ২৭ হাজার টাকা, আসমা আক্তার ৪০ নামে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, ফাতেমা ২০ নামে ৬০ হাজার টাকা, আমেনা বেগম ২০ নামে ৬০ হাজার টাকাসহ কয়েকশত নারী-পুরুষ টাকা জমা দিয়েছেন। এভাবে চক্রটি প্রায় ১৩ লাখ টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য

এ ব্যাপারে পারভীন বেগমসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, আমরা বিশ্বাস করে বিদেশি সাহায্যে উচ্চ মূল্যের বাজারে পণ্য পাওয়ার আশায় টাকা জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রতারিত হলাম। প্রতারক চক্রের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের প্রতিক্রিয়া

বিষয়টি নিয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, এই ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।