রাজধানীর জাপান গার্ডেন সিটির ২৬টি ভবনের মধ্যে সাতটিতে চার দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাজারো বাসিন্দা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গত মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত
জাপান গার্ডেন সিটির বাসিন্দা তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘এসি, ফ্যান বন্ধ। ভ্যাপসা গরমে দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। চার দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। ফ্রিজের ২৬ কেজি মাংস পচে গেছে। জেনারেটর দিয়ে কিছুটা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু মাঝেমধ্যে সেটাও বন্ধ রাখছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে ওপর থেকে নামব বা ওপরে উঠব, সেই উপায় নেই।’
শুধু তৌহিদুর নন, বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। গত মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে জাপান গার্ডেন সিটিতে বিদ্যুৎ ছিল না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জাপান গার্ডেন সিটির অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ত্রুটি সারানো হলে ১৯টি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হয়। কিন্তু বাকি সাতটি ভবনের অভ্যন্তরীণ ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হয়নি।
পানি সরবরাহ বন্ধ, গরমে শিশু-বৃদ্ধদের দুর্ভোগ
চার দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকাটির হাজারো বাসিন্দা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন থাকায় বাসিন্দাদের পানি সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে রান্না, গোসল, টয়লেট ব্যবহারসহ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন বাসিন্দারা। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
২০ নম্বর ভবনের আরেক বাসিন্দা মাসুম খন্দকার বলেন, ‘ফ্রিজের অনেক জিনিস নষ্ট হয়ে গেছে। বেশকিছু জিনিস আশপাশের যাঁরা নিকটাত্মীয় আছেন, তাঁদের বাসায় পাঠিয়েছি। তবে এভাবে বসবাস করা খুব অসহনীয়। একটা সমস্যা এত দিন ধরে চলা অস্বাভাবিক।’
ডিপিডিসি ও কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) জানিয়েছে, জাপান গার্ডেন সিটির নিজস্ব ৩৩ কেভি সাবস্টেশনের একটি ট্রান্সফরমারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।
ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী আয়াতুল্লাহ ইমরান আলী বলেন, ‘জাপান গার্ডেন সিটি ডিপিডিসির ৩৩ কেভি পর্যায়ের গ্রাহক। মঙ্গলবার থেকে জাপান গার্ডেন সিটির অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে জাপান গার্ডেন সিটি কর্তৃপক্ষ তাদের উপকেন্দ্র সচলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে বাসিন্দাদের অনুরোধে ডিপিডিসি নিজ উদ্যোগে সরবরাহ সচলের চেষ্টা করে। গতকাল রাত ১১টার দিকে কারিগরি ত্রুটি সারানোর পর বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হয়। কিন্তু তাদের কয়েকটি ভবনের অভ্যন্তরীণ ত্রুটি থাকায় সেগুলোয় সরবরাহ সচল হয়নি।
ব্যবস্থাপনার অযোগ্যতার অভিযোগ
তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা কমার্শিয়াল রেটে বিদ্যুৎ বিল দিই। অথচ চার দিন আমরা অন্ধকারে। এই অব্যবস্থাপনার জন্য জাপান গার্ডেন সিটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অযোগ্যতাই দায়ী।’
জাপান গার্ডেন সিটির ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটির কারণে সমস্যাটা দীর্ঘ হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কোন ভবনে কী সমস্যা, সেটাও বোঝা যায়নি। বিদ্যুৎ আসার পরে কয়েকটি ভবনে আবারও সমস্যা দেখা দেয়। আমরা আশা করছি, এ ধরনের সমস্যা পরে আর হবে না। একটি টিম গঠনের কাজ চলছে, যারা পরবর্তী সময়ে এ ধরনের সমস্যা সমাধানে তৎপর থাকবে।’



