দুই বছর আগে স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল যখন মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইউরো জিতেছিলেন, তখন তাঁর কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, প্রিমিয়ার লিগের একজনকে বার্সেলোনায় আনা সম্ভব হলে কাকে নেবেন? বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে ইয়ামাল উত্তর দিয়েছিলেন—কেভিন ডি ব্রুইনা। আজ সেই ইয়ামাল ও ডি ব্রুইনা মুখোমুখি হচ্ছেন স্পেন-বেলজিয়াম ম্যাচে।
ইয়ামালের বিশ্বকাপ যাত্রা
সেই কিশোর ইয়ামালের বয়স এখন ১৯ হতে চলেছে, আর বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে পা রেখেছেন এবারই প্রথম। অথচ দুই মাস আগেও তাঁর বিশ্বকাপে খেলা ছিল অনিশ্চিত। এপ্রিলে সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে চোটে পড়ে তাঁর বিশ্বকাপ খেলা নিয়েই সংশয় দেখা দেয়। ইয়ামাল নিজেও বলেছিলেন, ঠিক ওই মুহূর্তে ভেবেছিলেন তাঁর বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেস্তেই গেল! শেষ পর্যন্ত চোট কাটিয়ে ফিরেছেন স্পেন দলে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলের জন্য মরিয়া স্পেন কোচ ইয়ামালকেও নামিয়ে দিয়েছিলেন, যদিও গোল পাননি।
বিশ্বকাপে প্রথম গোল ও চ্যালেঞ্জ
সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ১০ মিনিটেই পেলের পর দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল পেয়ে যান ইয়ামাল। তবে এখনো বার্সেলোনা বা ইউরোর সেই ইয়ামালকে দেখা যায়নি বিশ্বকাপে। শেষ ষোলোতে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইয়ামাল বলেছিলেন, পর্তুগালের লেফটব্যাক নুনো মেন্দেস তাঁর দেখা সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষদের একজন। শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে ইয়ামালকে খুব বেশি কিছু করতে দেননি মেন্দেসই। কে জানে, ইয়ামাল হয়তো তাঁর সেরাটা রেখে দিয়েছেন বেলজিয়াম ম্যাচের জন্য!
বেলজিয়ামের শিবিরে ইয়ামালের প্রশংসা
বেলজিয়ামও জানে, ইয়ামাল নিজের দিনে কী করতে পারেন। বেলজিয়াম গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া বলছেন, ‘আমরা জানি, ইয়ামাল কতটা প্রতিভাবান খেলোয়াড়। বিশেষ করে গোলরক্ষককে একা পেলে সে আরও বেশি ভয়ংকর। সে খুবই ক্ষিপ্র, দ্রুতগতির এবং দরকার হলে দুজনকেও কাটিয়ে ফেলতে পারে।’
স্পেনের জন্য ইয়ামালের গুরুত্ব
ইয়ামালের ক্লাব সতীর্থ দানি ওলমো বলেছেন, গোল বা অ্যাসিস্টে বড় কিছু করতে না পারলেও ইয়ামালের মাঠে নামা মানেই স্পেনের জন্য আশীর্বাদ। তিনি বলেন, ‘ইয়ামাল তার ড্রিবলিং ও উপস্থিতি দিয়ে ব্যবধান গড়তে পারে। যখন সে বল পায়, তখন দুই বা তিনজন তাকে ঘিরে ধরে, আমরা বাড়তি জায়গা পেয়ে যাই। ইয়ামাল সব সময় গোল বা অ্যাসিস্ট করে, নিজের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে আগেও করেছে। কিন্তু সেগুলো না করলেও তার খেলাটা দলের জন্য অনেক জরুরি।’
ডি ব্রুইনার অনিশ্চিত অবস্থান
অন্যদিকে, ৩৪ বছর বয়সী ডি ব্রুইনা বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি। তবে এখন তিনি দলে অপরিহার্য নন, তা জেনে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচেই। সেই ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল ডি ব্রুইনাকে, বাইরে থেকে দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দেওয়া দলের ৪-১ গোলের জয়। আজও বেলজিয়াম কোচ তাঁকে বসিয়ে রাখলে সেটা বিস্ময় হবে না।
ডি ব্রুইনার শেষ বিশ্বকাপ?
নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে ডি ব্রুইনা জেনে গেছেন, এবারই হয়তো শেষ। ২০১৪ বিশ্বকাপে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে, ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন। ২০২২ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর কোচের সঙ্গে বিবাদে কেউ কেউ শেষ দেখে ফেলেছিলেন জাতীয় দলে তাঁর যাত্রার। কিন্তু ডি ব্রুইনা আছেন এখনো। গোল পেয়েছেন এই বিশ্বকাপেও। বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়াও জানেন, দরকারের সময় এই ডি ব্রুইনাই বদলে দিতে পারেন ম্যাচ।
আজকের ম্যাচের সম্ভাবনা
ইয়ামাল আজ ফিট থাকলে মাঠে নামবেন, কিন্তু ডি ব্রুইনার ক্ষেত্রে কথা নিশ্চিত নয়। আজকের দিনটা শেষ পর্যন্ত কার হবে, তা জানা যাবে মাঠেই।



