ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি নিউ মার্কেট শাখার আয়োজনে একটি গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৯ জুলাই এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একমাত্র প্রতিনিধি মোহাম্মদ জহির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মাহবুব আলম।
সমাবেশে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য
সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা সেন্ট্রাল জোনের প্রধান মো. মাহবুব-আ-আলম সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য শাহ মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ। নিউ মার্কেট শাখার প্রধান মো. মাহাবুবুস সাজ্জাদ স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. বেলাল হোসেন, ঢাকা কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক পারভিন সুলতানা হায়দার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধ্যাপক রায়হানা তাসলিমা, এবং ব্যবসায়ী মো. হোসেন ও নাজমা সুলতানা।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিক আমানতকারীরা। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের স্বার্থ রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশি ও ইসলামী জাতীয়তাবাদের একটি চমৎকার সমন্বয়। বিশ্বে অনেক ইসলামী ব্যাংক থাকলেও এই অঞ্চলে আমাদের এই ব্যাংকটি অন্যতম পথিকৃৎ। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ইসলামী ব্যাংকও গৌরবের সাথে টিকে থাকবে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই ব্যাংকের সেবা সমানভাবে পাবে। এটি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের ব্যাংক হবে না; এটি হবে সাধারণ মানুষের ব্যাংক।
গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার মূলধন মাত্র ৬,৫০০ কোটি টাকা, যেখানে গ্রাহকদের আমানত প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এই শেয়ার অনুপাত মোট আমানতের তুলনায় নগণ্য। তাই শেয়ার নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।
তিনি আরও বলেন, লুট করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের দক্ষ ব্যবস্থাপনা দলকে পূর্ণ আস্থা ও কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা ৩০-৩৫ বছর ধরে কাজ করছে। বোর্ডের কাজ শুধু নীতি নির্ধারণ করা; ব্যাংকটি পরিচালনা করবেন পেশাদাররা।
গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান
গ্রাহক ও আমানতকারীদের ব্যাংকের পাশে দাঁড়াতে এবং আমানত বৃদ্ধিতে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের জন্য নতুন ভোর এসেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করেন যে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে ব্যাংকটি তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং অল্প সময়ের মধ্যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
প্রধান আলোচকের বক্তব্য
প্রধান আলোচক শাহ মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে তা আমাদের পূর্বসূরিদের নিরলস পরিশ্রম ও ত্যাগের ফসল। ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান রয়েছে। এছাড়া তৎকালীন সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ও চট্টগ্রামের বাইতুশ শরফের পীর সাহেবও এই ব্যাংক গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখেন।
ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তি তুলে ধরে প্রধান আলোচক বলেন, নবুওয়াত লাভের আগেই হযরত মুহাম্মদ (সা.) হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রা.)-এর সাথে 'মুদারাবা' নীতিতে ব্যবসা পরিচালনা করেছিলেন। ইসলামের সেই চিরন্তন ও স্বর্ণালী আদর্শ এবং মুদারাবা নীতির ভিত্তিতেই ইসলামী ব্যাংকগুলি তাদের সার্বিক আর্থিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কোম্পানি সেক্রেটারি মো. হাবিবুর রহমান, ব্যাংকের নির্বাহী ও কর্মকর্তা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ীরা।



