টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন শেড, ইয়ার্ড ও অভ্যন্তরীণ সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার পণ্য ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
কয়েকটি শেডে পানি প্রবেশ, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা
রোববার (১২ জুলাই) সরেজমিন দেখা যায়, বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর শেডের আশপাশে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। এছাড়া ৯ নম্বর শেডের ভেতরে সবচেয়ে বেশি পানি প্রবেশ করেছে। সেখানে নিচের সারিতে রাখা বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল, কাপড়, কেমিক্যাল ও অন্যান্য পণ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েকটি শেড তালাবদ্ধ থাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে প্রতি বছর বিপত্তি
বন্দর ব্যবহারকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত বের হতে পারেনি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পানি শেডে ঢুকে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত তিন দিন ধরে পাওয়ার পাম্প ও শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি অপসারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। শনিবার বৃষ্টির তীব্রতা কম থাকায় কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে।
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
আমদানিকারক আমজাদ হোসেন বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই বেনাপোল বন্দর পানিতে ডুবে যায়। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হচ্ছে। ক্ষতির দায় ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হয়, অথচ বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় না।”
বেনাপোল আমদানি রপ্তানি সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, “বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো বহু বছর ধরে ড্রেনেজ সমস্যাসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তুলে ধরছে; কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছর শতাধিক আমদানিকারক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ স্থলবন্দরে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।”
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, “এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। বর্ষা এলেই বন্দরের বিভিন্ন শেডে পানি ঢুকে পণ্য নষ্ট হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং দ্রুত স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতেও একই ক্ষতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে।”
বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক কাজী রতন বলেন, “টানা ভারি বৃষ্টির কারণে কয়েকটি শেডে পানি প্রবেশ করেছে এবং কিছু পণ্য ভিজেছে। পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে দ্রুত পানি অপসারণের কাজ চলছে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।” তিনি আরও বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”



