জয়পুরহাটে নলকূপের ট্রান্সফরমারের তামার তার চুরি, পাহারাদার আহত
জয়পুরহাটে নলকূপের ট্রান্সফরমারের তামার তার চুরি

ফসলের মাঠের গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমার থেকে তামার তার চুরি করে দুর্বৃত্তরা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার চকরঘুনাথ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দেড় মাস আগে ওই নলকূপের ঘরের দরজায় চাঁদা দাবি করে চিরকুট রেখে গিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। চাঁদা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পাহারাদারকে বেঁধে তিনটি ট্রান্সফরমারের তামার তার চুরি করা হয়।

পাহারাদারকে বেঁধে চুরি

আহত পাহারাদার আবদুল কুদ্দুস (৬০) বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে নলকূপের ঘর থেকে বের হওয়ার পর পাঁচ-ছয়জনের একটি দল তাকে ধরে ফেলে। চুরি করতে বাধা দেওয়ায় তারা তাকে মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ঘরের ভেতর ফেলে রাখে। পরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার খুলে নিচে নামিয়ে তামার তার খুলে নিয়ে যায়। কুদ্দুস বলেন, 'আমাকে যেভাবে বেঁধেছিল, মনে হয়েছিল, হয়তো মেরে ফেলবে। ভয়ে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। তারা চলে গেলে আমি গোঙাতে থাকি। শব্দ শুনে লোকজন এসে উদ্ধার করে।' স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চাঁদা দাবির ইতিহাস

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, দেড় মাস আগে নলকূপঘরের শিকলে একটি চিরকুট রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। চিরকুটে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে মুঠোফোনে দাবি করা টাকা চাওয়া হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে নলকূপের মালিকপক্ষ আক্কেলপুর থানার ওসি ও ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওই গভীর নলকূপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, 'চকরঘুনাথ গ্রামের ৬৮ জন কৃষক মিলে এই গভীর নলকূপ স্থাপন করেছি। চিরকুট রেখে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় শেষ পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটল।'

এলাকায় আতঙ্ক

গ্রামের বাসিন্দা ও সোনামুখী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন বলেন, 'এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। আমরা সবাই আতঙ্কে আছি। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ঘটনার তিন দিন আগে একই উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের নয়দুয়ারি গ্রামের একটি ফসলের মাঠের অগভীর নলকূপ থেকেও একইভাবে তিনটি ট্রান্সফরমারের তামার তার চুরির ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় এলাকার মানুষেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। দেড় মাস আগে চাঁদা দাবির ঘটনায় একটি মুঠোফোন নম্বরের সূত্র পাওয়া গিয়েছিল, যা নওগাঁর মান্দা উপজেলার এক রিকশাচালক ব্যবহার করেন।

আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত বলেন, নলকূপ মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।