রাজশাহীতে একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের কাজ বন্ধ করে চাঁদা দাবি এবং প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মহানগরীর শিরোইল স্টেশন রোডের পাশে ‘রাজশাহী টাওয়ার’ নামের ২১ তলা ভবনটি নির্মিত হচ্ছে, যা রাজশাহীর সর্বোচ্চ তলার বহুতল ভবন হতে যাচ্ছে।
অভিযোগকারীর বক্তব্য
অভিযোগকারী মোস্তাফিজুর রহমান নগরের শিরোইল রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ‘রাজশাহী টাওয়ার’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক। তিনি জানান, ১০০ জন সদস্যের যৌথ উদ্যোগে ভবনটির নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পের পাশেই ‘হকস ইন’ নামে একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। ওই হোটেলের মালিক এনাজুল হক ভবনের ক্ষয়ক্ষতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে শুরু থেকেই ২৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
মোস্তাফিজুরের অভিযোগ, এর আগে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) পরিদর্শকেরা হোটেল ভবনটি পরিদর্শন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাননি। এরপরও নির্মাণকাজ সচল রাখতে বিভিন্ন সময়ে এনাজুল হককে মোট ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বুধবার দুপুরে ভবনটির ঢালাই চলার সময় এনাজুল দলবল নিয়ে নির্মাণস্থলে আসেন। তিনি কাজ বন্ধ করে দেন এবং বাকি টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে মোস্তাফিজুরকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে শ্রমিক ও সাইট ইঞ্জিনিয়ারদের বাধায় তিনি রক্ষা পান।
তিনি বলেন, ‘টাকা না পেয়ে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ধাক্কাধাক্কিও করা হয়েছে। অপহরণেরও চেষ্টা করা হয়েছে।’
অভিযুক্তের বক্তব্য
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এনাজুল হক বলেন, ‘পাশের ভবনের নির্মাণকাজের কারণে আমার হোটেল ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ২৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা না পাওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।’
পুলিশের পদক্ষেপ
নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। সেটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



