ফতুল্লায় ডিশ ব্যবসায়ী হত্যা: আসামির দুই ভাই আটক, পুলিশে সোপর্দ
ফতুল্লায় ডিশ ব্যবসায়ী হত্যা: আসামির দুই ভাই আটক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ডিশ লাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছুরিকাঘাতে নাছির নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত শরীফের দুই ভাইকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।

গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকা থেকে নাঈম ও আরিফ নামে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। এর আগে, একই দিন দুপুরে চাঁনমারী মাউড়াপট্রি এলাকায় 'ফ্রেন্ডস ক্যাবল' অফিসে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত নাছির (৬০) ফতুল্লার চাঁনমারী মাউড়াপট্টি এলাকার মৃত সাইজ্জদিনের ছেলে। তিনি 'ফ্রেন্ডস ক্যাবল' নামে একটি ডিশ ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে শরীফ ও তার সহযোগীকে দৌড়ে পালানোর একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর থেকে নিহত নাছিরের লোকজন তাদের খুঁজছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের অভিযোগ

এলাকাবাসী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাছির চাঁনমারী মাউড়াপট্টি এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে মাসোহারা আদায় করতেন। একই সাথে তিনি ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসাও চালাতেন। জুলাই আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে গেলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় নাছির এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তখন থেকেই একাধিক হত্যামামলার আসামি দাউদ ও তার পাঁচ ছেলে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীদের পৃষ্ঠপোষকতায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিজেদের বিএনপি নেতাকর্মী দাবি করে তারা নাছিরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তাদের ধারণা ছিল, নাছিরকে হত্যা করলে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ীই তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

স্বেচ্ছাসেবক দলের ভূমিকা

ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসকে শাহীন বলেন, হত্যাকারীর দুই ভাই কায়েমপুর এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে জানতে পেরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তাদের আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আওয়ামী লীগের বক্তব্য

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, দলীয় পদপদবী না থাকলেও আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিংয়ে নাছির সামনে থাকতেন। এলাকায় তিনি সবার সাথে মিলেমিশে থাকতেন এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কোনো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই। প্রতিদিনের মতো নাছির তার ডিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন। সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।

পুলিশের বক্তব্য

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কভারসহ একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে, তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিনা তা যাচাই-বাছাই চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে নাছিরের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।