বুধবার রাতে সুইজারল্যান্ড–কানাডা এবং কাতার–বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ড। আগের আসরগুলোর মতো এবারও একই গ্রুপের শেষ দুই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে একই সময়ে। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে ম্যাচগুলো ভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হলেও শেষ রাউন্ডে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বিশেষ একটি কারণে।
কেন একই সময়ে ম্যাচ?
এর মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো দল যেন আগে থেকেই অন্য ম্যাচের ফল জেনে নিজেদের সুবিধামতো খেলার সুযোগ না পায় এবং নকআউট পর্বে ওঠার সমীকরণকে প্রভাবিত করতে না পারে। ফিফা এই নিয়ম চালু করে ১৯৮২ বিশ্বকাপের কুখ্যাত গিহোনের কলঙ্কের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে। স্পেনে অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়া। ম্যাচের আগে দুই দলই জানতো, পশ্চিম জার্মানি ১-০ ব্যবধানে জিতলেই উভয় দল পরবর্তী পর্বে উঠে যাবে, আর বিদায় নিতে হবে আলজেরিয়াকে।
গিহোনের কলঙ্কের কাহিনি
এর আগেই নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছিল আলজেরিয়া। আফ্রিকার দলটি উদ্বোধনী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল। পরে অস্ট্রিয়ার কাছে ২-০ গোলে হারের পর চিলিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে। সেই আসরে বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে দুটি ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছিল তারা।
সমীকরণ অনুযায়ী, পশ্চিম জার্মানি এক বা দুই গোলের ব্যবধানে জিতলে গোল গড়ে জার্মানি ও অস্ট্রিয়াই পরের পর্বে যেত। চার বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জিতলে পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে আলজেরিয়া যোগ্যতা অর্জন করতো। আর ঠিক তিন গোলের ব্যবধানে জিতলে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে পরবর্তী টাইব্রেকারের হিসাব সামনে আসতো।
কলঙ্কিত ম্যাচ
তার পরেই ঘটে কলঙ্কিত ঘটনা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ১০ মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যায় পশ্চিম জার্মানি। এরপর দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রায় বন্ধ করে দেয়। পুরো ম্যাচজুড়ে আর গোল করার তেমন কোনো চেষ্টা দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জিতে পশ্চিম জার্মানি। ফলে জার্মানি ও অস্ট্রিয়া দু’দলই নকআউট পর্বে উঠে যায়, আর বিদায় নিতে হয় আলজেরিয়াকে।
দুই দলের এই নিষ্প্রাণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খেলা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে ঘটনাটি গিহোনের কলঙ্ক নামে কুখ্যাতি অর্জন করে। এরপর থেকেই বিশ্বকাপে একই গ্রুপের শেষ ম্যাচগুলো একযোগে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা, যাতে কোনো দল অন্য ম্যাচের ফল জেনে কৌশলগত সুবিধা নিতে না পারে।



