ইঞ্জিন বিকল ও লাইনচ্যুতির পর চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধার
ইঞ্জিন বিকল ও লাইনচ্যুতির পর রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধার

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের’ ইঞ্জিন বিকল এবং ‘মেঘনা এক্সপ্রেসের’ লাইনচ্যুতির তিন ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ শুরু হয়েছে। বিকল্প ইঞ্জিন লাগিয়ে রাত ১০টার দিকে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এরপর ‘মেঘনা এক্সপ্রেস’ উদ্ধার করা হয়। নাঙ্গলকোট স্টেশনের মাস্টার জামাল উদ্দিন ও লাকসাম জংশন স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার হাসানপুর স্টেশনে ইঞ্জিন বিকল এবং একই সময়ে গুণবতী এলাকায় লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। একই সময়ে চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেসের একটি বগির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। এতে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

রেলওয়ের বক্তব্য

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, হাসানপুর স্টেশন এলাকায় প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী বিরতিহীন সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়। এতে আপ লাইনে (ঢাকামুখী লাইন) ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে ডাউন লাইন দিয়ে (চট্টগ্রামমুখী লাইন) চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস চলাচলের সময় নাঙ্গলকোটের হাসানপুর ও চৌদ্দগ্রামের গুণবতী স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় বগি লাইনচ্যুত হয়। এর ফলে উভয়মুখী লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাত ১০টা ১০ মিনিটে বিকল্প ইঞ্জিন যুক্ত করে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার ক্রম

সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসানপুর রেল স্টেশন এলাকা পার হওয়ার একটু পরেই হাসানপুর-নাঙ্গলকোট সেকশনে নাঙ্গলকোটের মোঘরা এলাকায় প্রথমে বিরতিহীন সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। পরে ডাউন লাইন দিয়ে (চট্টগ্রামমুখী লাইন) দুই দিকের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই হাসানপুর রেল স্টেশন এলাকায় প্রবেশের একটু আগে চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেসের পেছনের গার্ড বগির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। এতে উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ঘণ্টাখানেক পর লাইনচ্যুত হওয়া বগিটি রেখে মেঘনা এক্সপ্রেস ঘটনাস্থল ছেড়ে আসে। রাত ৯টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি লাকসাম এসে পৌঁছায়।

উদ্ধার কার্যক্রম

চট্টগ্রাম থেকে একটি ইঞ্জিন এসে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসকে রাত পৌনে ১০টার দিকে উল্টোদিকে চৌদ্দগ্রামের গুণবতী স্টেশনে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ইঞ্জিন পরিবর্তন করে ট্রেনটি ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। আর চট্টগ্রাম ও লাকসাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে লাইনচ্যুত হওয়া বগির উদ্ধারকাজ শুরু হবে।

যাত্রীদের দুর্ভোগ

রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সুবর্ণ এক্সপ্রেস নাঙ্গলকোটের হাসানপুরে আর চট্টলা এক্সপ্রেস নাঙ্গলকোট স্টেশনে আটকে থাকে। এতে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।