ফুটবল মাঠে এক মুহূর্তের অসাবধানতা কীভাবে ট্র্যাজেডি বয়ে আনতে পারে, তারই নির্মম সাক্ষী হলেন বেলজিয়ামের ব্যাকআপ গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স। তার এক মারাত্মক ভুলেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হলো বেলজিয়ামকে। স্পেনের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে তারা।
মেরিনোর অলৌকিক রূপকথা
অন্যদিকে বদলি হিসেবে নেমে আবারও স্পেনের ত্রাতা হয়ে অলৌকিক রূপকথা লিখলেন মিকেল মেরিনো। আগামী মঙ্গলবার ডালাস অঞ্চলে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে স্পেন। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচ প্রসঙ্গে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এটি হবে দুই পরাশক্তির এক মহালড়াই।’
ল্যামেন্সের ভুল ও মেরিনোর গোল
ম্যাচের ৭০তম মিনিটে বেলজিয়ামের প্রধান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ইনজুরিতে পড়লে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা সেনে ল্যামেন্স। কিন্তু মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ক্যারিয়ারের অন্যতম অন্ধকার মুহূর্তটি আসে।
ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে স্পেনের পাউ কুবারসির একটি দূরপাল্লার শট ল্যামেন্সের হাত থেকে ফস্কে যায়। ৮৬তম মিনিটে মাঠে নামা স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল মেরিনো চিতার বেগে বক্সে ঢুকে সেই ফিরতি বল (রিবাউন্ড) থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় টাচেই জয়সূচক গোলটি করেন।
মেরিনোর রেকর্ড
এর আগে শেষ ষোলোর ম্যাচেও পর্তুগালের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে বদলি হিসেবে নেমে ১-০ ব্যবধানের জয়সূচক গোলটি করেছিলেন এই আর্সেনাল ফরোয়ার্ড। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর এই প্রথম স্পেনের সেমিফাইনালে ওঠার পেছনে আবারও নায়ক সেই মেরিনো।
ম্যাচ শেষে হাসিমুখে মেরিনো বলেন, ‘আমি আবারও এটা করতে পারলাম, আমার সঙ্গে আবারও একই জিনিস ঘটল। তাই মনে হচ্ছে কাকতালীয় বিষয় বলে আসলেই কিছু আছে! আপনি যদি প্রস্তুত থাকেন এবং চেষ্টা করেন, তবে ভাগ্য আপনার সহায় হবেই। আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় ল্যামেন্সের সমালোচনা
ভুল করে বসা ল্যামেন্স অবশ্য বেশ দক্ষ গোলরক্ষক হিসেবেই পরিচিত, তবে এই ভুলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শ্রেণির ফুটবলপ্রেমীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
কোর্তোয়ার চোট বড় ধাক্কা
বেলজিয়ামের এই পরাজয়ের পেছনে তাদের নিয়মিত গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার চোট বড় ধাক্কা ছিল। ম্যাচে দারুণ ৪টি সেভ করার পর রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কোর্তোয়া উরুর ইনজুরিতে পড়েন। মাঠ ছাড়ার ৪ মিনিট আগে তিনি মাঠে ঘাসের ওপর বসে পড়েন এবং হাইড্রেশন ব্রেকের সময় চিকিৎসা নেন। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠ ধরে রাখতে না পেরে অশ্রুসজল চোখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে, যা বেলজিয়ামের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনে।



