২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে নরওয়ে, নিজস্ব খাবার নিয়ে যাচ্ছে ১ টন
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে নরওয়ে, নিজস্ব খাবার নিয়ে যাচ্ছে ১ টন

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপে ফিরছে নরওয়ে। আর্লিং হলান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে দলটি ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। বিশ্বকাপে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না নরওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের অচেনা খাবারের ওপর ভরসা না করে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মাঠের সেরা পারফরম্যান্স ধরে রাখতে নরওয়ে দল সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে বিপুল পরিমাণ নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী খাবার।

১ টনের বেশি খাবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নরওয়ে

সব মিলিয়ে এই খাবারের ওজন ১ টন বা ১ হাজার কেজির বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র গরমে ফুটবলারদের ক্লান্তি দূর করতে, শরীরে পুষ্টির জোগান ঠিক রাখতে এবং ঘরের খাবারের চেনা স্বাদ দিয়ে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চনমনে রাখতে নরওয়ে দল এই ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি নিয়েছে। খাবারের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আছে মাছ আর নরওয়েজিয়ান চিজ। নরওয়ে ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে স্যামনসহ ৩০০ কেজি মাছ।

নিজস্ব শেফের তত্ত্বাবধানে খাদ্য পরিকল্পনা

খাবারদাবারের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে আছেন নরওয়ের নিজস্ব শেফরা, যাঁদের অন্যতম অ্যারন এসপেল্যান্ড। অ্যারন এসপেল্যান্ড নরওয়ের একজন নামকরা ও পুরস্কারজয়ী শেফ। আর্লিং হলান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডদের মতো তারকা ফুটবলারদের পুষ্টি ও খাবারের দেখভালের জন্যই তিনি নরওয়ে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। অ্যারন বলেছেন, ‘আমরা যা ভালো বলে মনে করি, ঠিক সেটাই চাই। আর নরওয়ের সেরা উপাদানগুলো নিয়ে কাজ করি। সেরা খাবারটা খেলোয়াড়দের পাতে দিতে পারাটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত ও পূর্ববর্তী দৃষ্টান্ত

আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে অনবরত ভ্রমণ, তীব্র গরম, হোটেলের জীবন আর একদম নতুন পরিবেশ—সবই ফুটবলারদের শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক চাপে ফেলে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের চেনা খাবার নিয়ে যাওয়াটা কোনো লোকদেখানো ব্যাপার নয়; বরং এটি নরওয়ে ফুটবল দলের কর্মকর্তাদের একটি দারুণ বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। তারা মনে করেন, এই ছোটখাটো চেনা অভ্যাসগুলোই খেলোয়াড়দের নতুন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। এর আগেও ২০১৮ সালের অলিম্পিকে নরওয়ে দল খাবারের কারণে খবরে উঠে এসেছিল। সেবার ভুল করে ১ হাজার ৫০০ ডিমের জায়গায় তারা ১৫ হাজার ডিমের অর্ডার দিয়ে ফেলেছিল। তবে অলিম্পিকের সেই ভুলের চেয়ে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের পরিকল্পনাটি বেশ গোছানো ও বাস্তবসম্মত।

বিশ্বকাপে খাদ্য কৌশলের গুরুত্ব

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এই প্রস্তুতি হয়তো সরাসরি কোনো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেবে না; তবে খেলা শুরুর আগে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ ও দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতে এটি দারুণ সাহায্য করবে। এর আগেও বিশ্বকাপে এমন ঘটনা দেখা গেছে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল দেশ থেকে প্রায় ৯০০ কেজি গরুর মাংস সঙ্গে নিয়ে এসে খবরের শিরোনাম হয়েছিল, যার ফল সবাই দেখেছে।

সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বিষয়টিকে মার্কিন খাবারের প্রতি নরওয়ের অবিশ্বাস হিসেবে দেখছে। তবে দলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসল কারণটি পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক ও পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত। বাড়ি থেকে দূরে কয়েক সপ্তাহ ধরে অপরিচিত পরিবেশে থাকার সময় সামান্য খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও খেলোয়াড়দের হজম, ঘুম, ক্লান্তি দূর করা বা ম্যাচের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নরওয়ে দল মূলত এই ঝুঁকিটুকু এড়াতে চায়।

সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস ও ডায়ারিও এএস সকার