আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল করার পরই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই আবেগ দেখে সারা বিশ্বের ভক্তরা অবাক হয়ে যান। এখন জানা গেছে, সেই কান্নার পেছনে ছিল তার বাবা হোর্হে হোরাসিও মেসির গুরুতর অসুস্থতার খবর।
ম্যাচের বিবরণ
কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে জেতার ম্যাচে মেসি বিশ্বকাপে জীবনের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন। অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে প্রথম গোলটি করার পর তিনি মাঠেই কেঁদে ফেলেন। কারণ বাবার অসুস্থতার ভার ছিল তার বুকে।
মেসির বক্তব্য
ম্যাচ শেষে মেসি নিজেই কারণটা জানান, 'সত্যি বলতে, এটা খেলার সাথে একদমই সম্পর্কিত না। কয়েকটা দিন খুব কঠিন, খুব জটিল ছিল।'
সাংবাদিকের ব্যাখ্যা
এরপর আর্জেন্টিনার বড় রেডিও চ্যানেল রেডিও মিত্রেতে সাংবাদিক এদুয়ার্দো ফেইনমান বিষয়টা খোলাসা করেন। তিনি বলেন, 'এটা তার বাবার বিষয়। তার বাবা ভালো নেই। বেশ কিছুদিন ধরে, কয়েক মাস ধরে, গত বছর থেকে। এই সপ্তাহে কিছু ঘটনায় তার স্বাস্থ্য একটু বেশি খারাপ হয়েছে। আর মেসি ভেতরে ভেতরে এই কষ্ট বহন করছেন। মানে, একজন সাধারণ মানুষের মতোই।'
হোর্হে মেসির ভূমিকা
৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি শুধু বাবাই নন, ছেলের এজেন্ট ও ব্যবসা পরিচালকও। মেসির কোটি টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য তিনিই দেখাশোনা করেন। জানুয়ারিতে তিনি বাড়িতে একটি শারীরিক সমস্যায় পড়েন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর হৃদযন্ত্র ও স্নায়ু সংক্রান্ত বেশ কিছু পরীক্ষা হয়। তবে পরিবার এতদিন বিষয়টা সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিল।
বাবা-ছেলের সম্পর্ক
মেসি ও তার বাবার সম্পর্ক শুধু পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ফুটবলের দিক থেকেও তারা সবসময় একসাথে ছিলেন। হোর্হে ছোটবেলা থেকে ছেলের পাশে থেকে কোচিং দিয়েছেন, পথ দেখিয়েছেন। রোসারিওর বিখ্যাত ক্লাব নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ মেসির প্রতিভা দেখে তাকে নিতে আসে। পরে বাবা-ছেলে মিলে চুপচাপ বার্সেলোনায় ট্রায়ালে চলে যান। স্কুলে বা পরিচিতদের কেউ জানত না তারা কোথায় গেছেন। বার্সার লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে কোচরা মেসিকে দেখে অবাক হয়ে যান। সেখান থেকেই শুরু হয় তার বিশ্বজয়ের গল্প।
মেসির বর্তমান অর্জন
এখন ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন মেসি। এটি তার ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচও। মিরোস্লাভ ক্লোজার সাথে যৌথভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে পৌঁছেছেন তিনি। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছেন। তবে এই সময়ে এসেও মেসির মন পড়ে আছে সেই বাবার কাছেই।



