২০১৮ বিশ্বকাপের স্মৃতি ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জ ক্রোয়েশিয়ার
২০১৮ বিশ্বকাপের স্মৃতি ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জ

১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কখনও শিরোপার স্বাদ পায়নি ইংল্যান্ড। ছয় দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা ও আক্ষেপ ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়েই এবার উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘থ্রি লায়ন্স’রা। তাদের প্রথম পরীক্ষাই কঠিন—প্রতিপক্ষ ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া। ডালাসে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ২টায় ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই ইউরোপীয় শক্তি।

ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে চমক

বিশ্বকাপের দল ঘোষণার সময় বেশ কিছু চমক দিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি ফিল ফোডেন, কোল পামার, হ্যারি ম্যাগুইয়ার কিংবা ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ডের মতো পরিচিত তারকাদের। তবে বাছাইপর্বে টুখেলের দল ছিল দুর্দান্ত। আট ম্যাচের সবকটিতেই জয় তুলে নিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।

অভিজ্ঞ জর্ডান হেন্ডারসনও আছেন টুখেলের দলে। ম্যাচের দিন ৩৬ বছরে পা দিতে যাওয়া এই মিডফিল্ডার মনে করেন, নতুন কোচের দল নির্বাচন দলের ঐক্য ও রসায়ন আরও শক্তিশালী করবে। তবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
‘বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে কঠিন মুহূর্ত আসবেই। সবকিছু কখনও আপনার পক্ষে থাকবে না। তখন দল হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা এখন ভালো অবস্থানে আছি। অপেক্ষা শুধু মাঠে নেমে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর।’

মিশ্র স্মৃতি

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের স্মৃতি মিশ্র। ২০০৪ সালের পর বড় কোনো টুর্নামেন্টে এটি হবে দুই দলের চতুর্থ সাক্ষাৎ। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দুইবারই জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। তবে ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে জিতে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙেছিল ক্রোয়েশিয়া।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন এখনও ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা। সেবার ফ্রান্সের কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তাদের। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল দলটি, যদিও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে হার মেনে বিদায় নিতে হয়।

মদ্রিচের আত্মবিশ্বাস

দলের প্রাণভোমরা লুকা মদ্রিচ এবারও ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের নেতৃত্বে থাকবেন। পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া এই অভিজ্ঞ তারকা গত মৌসুমে চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন। তবু দেশের হয়ে ২০০তম ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় থাকা মদ্রিচ আত্মবিশ্বাসী।

‘বিশ্বকাপগুলোতে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল দলের ঐক্য। এবারও সেটাই ধরে রাখতে হবে। আমরা এখানে শুধু অংশ নিতে আসিনি। ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিশ্বের যেকোনো দলের সঙ্গে লড়াই করার সামর্থ্য আমাদের আছে।’

টুখেলের মূল্যায়ন

ইংল্যান্ড কোচ টুখেলও ক্রোয়েশিয়ার শক্তির জায়গা হিসেবে মাঝমাঠকেই দেখছেন। তার মতে, মদ্রিচ ও মাতেও কোভাচিচ এখনও ক্রোয়েশিয়ার খেলার মূল চালিকাশক্তি।

‘ক্রোয়েশিয়ার খেলার কেন্দ্রবিন্দু হবে মদ্রিচ ও কোভাচিচকে ঘিরে। তাদের রক্ষণভাগও শক্তিশালী। ইভান পেরিসিচ দুই পায়ে আক্রমণে হুমকি তৈরি করতে পারে। তাদের অভিজ্ঞতা, আবেগ ও ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে তারা সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ।’

বিশ্বকাপ মিশনের শুরুতেই তাই ইংল্যান্ডের সামনে অপেক্ষা করছে বড় পরীক্ষা। আর ক্রোয়েশিয়াও চাইবে পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে এনে আবারও ইংলিশদের হতাশ করতে।