সোমবার মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান ডেম্বেলের জোড়া গোলে লেস ব্লুজরা মাঠ ছেড়েছে জয় নিয়ে। এই দুই ফরোয়ার্ডের দারুণ ফর্মে ফ্রান্স এবারের আসরে শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে।
এমবাপে-ডেম্বেলের মাইলফলক
এমবাপে মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনুর বিপক্ষে ডান পায়ের শটে অষ্টম গোল করেন। এটি তার বিশ্বকাপের ২০ ম্যাচে ২০তম গোল। অন্যদিকে ডেম্বেলে তার পঞ্চম গোল করেন অধিনায়কের চালাকির সুবিধা নিয়ে। এই দুই ফরোয়ার্ডের গোল সংখ্যা এখন ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা।
ডেম্বেলে ম্যাচ শেষে বলেন, “এটি এমন একটি অবস্থান যেখানে আমি খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, ফ্রান্সের হয়ে এবং প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের হয়ে। আমি আগেই বলেছি, এই প্রতিযোগিতায় আমি প্রতি ম্যাচে শক্তিশালী হচ্ছি।”
বিরল কীর্তি
এমবাপের আট ও ডেম্বেলের পাঁচ গোল মিলিয়ে ফ্রান্স জুটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক বিশেষ তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ২০০২ সালের ব্রাজিলের রোনালদো ও রিভালদোর পর প্রথমবারের মতো এক দেশের দুই খেলোয়াড় এক আসরে পাঁচ বা তার বেশি গোল করলেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে হাঙ্গেরির জর্জ সারোসি ও গিউলা জেঙ্গেলার (১৯৩৮), সান্দর কোচিশ ও ফেরেঙ্ক পুশকাস (১৯৫৪), ব্রাজিলের আদেমির ও শিশো (১৯৫০), পেলে ও ভাভা (১৯৫৮), পেলে ও জাইরজিনহো (১৯৭০), ফ্রান্সের জুস্ত ফন্তেইন ও রেমোঁ কোপা (১৯৫৮), জার্মানির হেলমুট হালার ও ফ্রান্ৎস বেকেনবাওয়ার (১৯৬৬), পোল্যান্ডের গ্রজেগোর্জ লাটো ও আন্দ্রেজ সারমাচ (১৯৭৪), আর্জেন্টিনার দিয়েগো ম্যারাডোনা ও হোর্হে ভালদানো (১৯৮৬) এবং ব্রাজিলের রোনালদো ও রিভালদো (২০০২) এই কীর্তি গড়েছিলেন।
ফ্রান্সের সম্ভাবনা
২০০২ সালের ব্রাজিলের মতো ফ্রান্সও এখন স্বপ্ন দেখছে। এমবাপে ও ডেম্বেলে মিলিয়ে ১৩ গোল করেছেন, যা রোনালদো-রিভালদো জুটির সমান। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল বাকি থাকায় তারা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত কোনো দলের দুই খেলোয়াড় ছয় বা তার বেশি গোল করতে পারেনি। ফ্রান্সের হাতে সেই সুযোগ রয়েছে।
তবে ডেম্বেলে মনে করেন, দল এখনও পুরোপুরি নিজেদের ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। তিনি বলেন, “আমরা গোলের সামনে আরও ধারালো হতে পারি এবং কম গোল হজম করতে পারি। আমরা ইউনিট হিসেবে আরও ভালো প্রেস করতে পারি। টুর্নামেন্ট যত গভীরে যাচ্ছি, আমরা ততই উন্নতি করছি।”
এমবাপের বক্তব্য
এমবাপে নিজের গোল সংখ্যা নিয়ে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চান না। তিনি বলেন, “ফ্রান্সের লক্ষ্য সবসময় জয়, আর এটাই এই দলের শক্তি। আমাদের প্রচুর প্রতিভা আছে, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা একে অপরের জন্য খেলি। আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং একই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি: জয়।”
ঐতিহাসিক রেকর্ড ছোঁয়ার জন্য এমবাপে ও ডেম্বেলের সামনে রয়েছে কোচিশ-পুশকাসের ১৫ গোল (১৯৫৪) এবং ফন্তেইন-কোপার ১৬ গোল (১৯৫৮)। ফ্রান্সের এই জুটি সেই রেকর্ড ভাঙার পথে রয়েছে।



