ডালাসে ম্যারাডোনার স্মৃতি: মেসির প্রতিশোধের মিশন শুরু
ডালাসে ম্যারাডোনার স্মৃতি: মেসির প্রতিশোধের মিশন

আর্জেন্টিনা ফুটবল দল আজ সোমবার (২১ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে ডালাসে। এই ম্যাচ জিতলেই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হবে লিওনেল স্কালোনির দলের। তবে এই ম্যাচের গুরুত্ব শুধু পয়েন্ট টেবিলের জন্য নয়; ডালাস শহরটি আর্জেন্টাইনদের মনে তিক্ত স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।

ম্যারাডোনার কালো অধ্যায়

১৯৯৪ সালের ৩০ জুন, ডালাসের ‘ফোর সিজনস’ হোটেলে দিয়েগো ম্যারাডোনা কেঁদে বলেছিলেন, ‘ওরা আমার পা দুটো কেটে দিল!’ সেবার বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-১ জয়ের পর ডোপ টেস্টে পজিটিভ হন তিনি। এফিড্রিনের জন্য ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা পায় ম্যারাডোনা। সেই ঘটনার পর আলফিও বাসিলের অধীনে আর্জেন্টিনা দল ম্যারাডোনাকে ছাড়াই ডালাসের কটন বোল স্টেডিয়ামে বুলগেরিয়ার কাছে ২-০ ব্যবধানে হারে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সেই হার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পথ তৈরি করে; শেষ ষোলোয় রোমানিয়ার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় তারা।

৩২ বছর পর ডালাসে ফিরতি

গত ৩২ বছরে আর্জেন্টিনা আর কোনো অফিসিয়াল টুর্নামেন্টের ম্যাচ ডালাসে খেলেনি; শুধু ২০১৫ সালে মেক্সিকোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল। এবার তারা খেলবে আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে, যা ২০০৯ সালে উদ্বোধন করা হয়েছে। বর্তমান স্কোয়াডের ২৬ জনের মধ্যে মাত্র ছয়জন (লিওনেল মেসি, নিকোলাস ওটামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, জেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুসো) সেই ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের সময় জন্মেছিলেন। বাকিরা ম্যারাডোনার ডোপ ট্র্যাজেডির গল্প শুনেই বড় হয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মেসির হ্যাটট্রিকে উজ্জীবিত দল

আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ জিতে গ্রুপ পর্ব শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট নিশ্চিত করার সুযোগ তাদের সামনে। অস্ট্রিয়া ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ২৪ নম্বরে থাকলেও, ডালাসের মাটিতে আর্জেন্টিনার জন্য এটি কেবল জয়ের ম্যাচ নয়—পুরোনো ক্ষতের প্রতিশোধের সুযোগ। পাঁচ দিন পর জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচের জন্যও তাদের আবার ডালাসে ফিরতে হবে।

প্রতিশোধের আবেগ

স্কালোনির দলের সামনে এবার মধুর প্রতিশোধের সুযোগ। ডালাসে ফিরে আরও একটি জয় তুলে নেওয়া, বুলগেরিয়ার কাছে সেই পুরোনো হারের প্রতিশোধ নেওয়া এবং নেতিবাচক আবহকে উড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য। ম্যারাডোনার সেই অশ্রুসিক্ত বাক্য—‘ওরা আমার স্বপ্নগুলোকে গুঁড়িয়ে দিল’—আজও ফুটবলবিশ্বে প্রতিধ্বনিত হয়। মেসি ও তার সতীর্থরা সেই স্মৃতি মুছে দিতে মাঠে নামবেন।