ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকারয়টার্সমাঠের খেলা শুরুর আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ভূরাজনীতিতে। বিশেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর দুই দেশের সম্পর্ক এখন খাদের কিনারে। এই চরম উত্তেজনার আবহে ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা মেলাচ্ছেন নতুন এক সমীকরণ, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেই কি তবে মুখোমুখি হবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র?
সংবাদমাধ্যম স্পোর্টিং নিউজের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বিশ্বকাপে দুই দেশের মুখোমুখি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের আসরে বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ ‘জি’-তে রয়েছে ইরান। তাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। শুরুতে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ও যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রবেশের অনুমতি নিয়ে সংশয় থাকলেও সে শঙ্কা কেটেছে। তবে মাঠের খেলায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি কেমন হবে, তা নিয়ে এখন জল্পনা তুঙ্গে।
নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ওয়াশিংটন বর্তমানে একটি ‘স্পর্শকাতর কূটনৈতিক কাঠামো’ নিয়ে কাজ করছে। এর উদ্দেশ্য হলো ইরানের মতো যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক নেই, তাদের অ্যাথলেটদের জন্য কঠোর নিরাপত্তার অধীনে দেশে প্রবেশের ব্যবস্থা করা।
সম্ভাব্য মুখোমুখি হওয়ার সমীকরণ
দুই দেশের মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে। সমীকরণ অনুযায়ী, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের (ডি) গ্রুপে রানার্স আপ হয় এবং ইরানও ‘জি’ গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হিসেবে পরের রাউন্ডে ওঠে, তবে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে দেখা যাবে দুই দলের লড়াই। স্পোর্টিং নিউজ জানিয়েছে, এমন ঘটলে আগামী ৩ জুলাই টেক্সাসে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ঘটার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র নিজ গ্রুপে ফেবারিট হলেও শক্তিশালী তুরস্ক তাদের পয়েন্ট কেড়ে নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নামিয়ে দিতে পারে।
ইরানকে গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম বা মিসরের মতো শক্তিশালী যেকোনো একটি দলকে টপকাতে হবে। বেলজিয়ামের বর্তমান দলটি বয়সের ভারে ন্যুব্জ এবং মিসরের মোহাম্মদ সালাহ-নির্ভরতা ইরানের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। ইরানকে তারা এই গ্রুপের ‘আন্ডারডগ’ আখ্যা দিয়েছে।
নকআউট পর্বের চ্যালেঞ্জ
নকআউট পর্বে এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচ আয়োজনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, ফিফা এবং স্থানীয় আয়োজকেরা ‘অভূতপূর্ব নিরাপত্তাব্যবস্থার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইএসপিএনের মতে, ঘরের মাঠে খেলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এমনিতেই চাপের, তার ওপর ইরানের বিপক্ষে সম্ভাব্য ম্যাচটি নিয়ে রাজনৈতিক হিসাব–নিকাশও থাকবে।
অন্যান্য সম্ভাবনা
দ্বিতীয় আরেকটি সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে শেষ ষোলোয়। সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দলকেই নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে এবং নকআউটের প্রথম বাধা পার করতে হবে। এ ছাড়া অত্যন্ত ক্ষীণ হলেও দুই দলের কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হওয়ার একটি সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে অনেকগুলো অঘটন এবং জটিল ড্র প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে হবে।
পূর্ববর্তী মুখোমুখি
বিশ্বকাপে এর আগেও মুখোমুখি হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে। সে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক দিয়েছিল ইরান। সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ইরানকে ১–০ গোলে হারায় যুক্তরাষ্ট্র।



