ফিফা লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত: বালোগানের মতো রোনালদোও পেয়েছিলেন সুযোগ
ফিফা লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত: বালোগানের মতো রোনালদোও পেয়েছিলেন সুযোগ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ রেফারিং বিতর্কের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত করে তাকে পরবর্তী ম্যাচ খেলার সুযোগ দিয়েছে। এই একই নিয়ম আগে পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়েছিল।

বালোগানের লাল কার্ড ও ফিফার সিদ্ধান্ত

নকআউট পর্বের যুক্তরাষ্ট্র–বসনিয়া ম্যাচে বসনিয়ার খেলোয়াড়ের গোড়ালিতে আঘাত করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় বালোগানকে। নিয়ম অনুযায়ী শেষ ষোলোর ম্যাচে তার থাকার কথা ছিল মাঠের বাইরে। কিন্তু ফিফার কাছে লাল কার্ড নিয়ে আপিল করে যুক্তরাষ্ট্র। শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়াম ম্যাচের আগে ফিফা জানায়, লাল কার্ড দেখলেও বালোগানের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে কোনো বাধা নেই। ফলে শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামেন তিনি।

ফিফার ২৭ নম্বর ধারা

এ ক্ষেত্রে ফিফা নিজেদের ২৭ নম্বর ধারা ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়। এই ধারায় লেখা আছে, ‘কমিটির সবাই যদি একমত হয়, তবে যে কোনো শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করতে পারবে।’ সেই নিয়ম অনুযায়ী বালোগানের শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যেও যদি তিনি একই ধরনের কাজ করেন, অর্থাৎ লাল কার্ড দেখেন, তবে তার জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় ধরনের শাস্তি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রোনালদোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম

ফিফা এর আগেও বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর লাল কার্ডের শাস্তি একইভাবে স্থগিত করেছিল। ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচের আগের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেন রোনালদো। ৪০ বছর বয়সি রোনালদোকে দারা ও’শিয়ার পিঠে কনুই মারার কারণে মাঠ ছাড়তে হয়। সেই ম্যাচে ২-০ গোলে হেরেছিল পর্তুগাল। মাঠে এমন আচরণের জন্য তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় তাকে। কিন্তু রোনালদোর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রোনালদোর প্রথম লাল কার্ড

বিবিসি স্পোর্ট তখন জানায়, রোনালদো জাতীয় দলে ২২৬টি ম্যাচ খেলে প্রথম লাল কার্ড দেখেন। মূলত সেই বিষয়টিই ফিফার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে। রোনালদো ১৬ নভেম্বর আর্মেনিয়ার বিপক্ষে বাছাই পর্বের ম্যাচটি নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলেননি। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখায় যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া এবারের বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ মিস করেননি তিনি।

ফিফার বিবৃতি

ফিফা এক বিবৃতিতে তখন জানায়, ‘পরবর্তী এক বছরের মধ্যে রোনালদো একই ধরনের কোনো ভুল করলে তার স্থগিত নিষেধাজ্ঞা বাতিল হবে এবং বাকি দুই ম্যাচের শাস্তি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে।’ এই নিয়মের আওতাতেই বিশ্বকাপের মধ্যে ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত করে খেলার সুযোগ দেয় ফিফা।