ফিফা কি আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে? বিতর্ক ও পরিসংখ্যান
ফিফা কি আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে? বিতর্ক

মিসরের কোচ হোসাম হাসান সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, ফিফা আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে এবং লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে রেফারিরা বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসর ৩-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পরই এই বিতর্কের সূত্রপাত। মিসর ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েছে ওই ম্যাচের রেফারিদের টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করার জন্য।

মেসির লাল কার্ড এড়ানোর ঘটনা

টুর্নামেন্টের শুরুতে আলজেরিয়ার অধিনায়ক ঈসা মান্দির ওপর মেসির একটি বিপজ্জনক ট্যাকলের জন্য তাকে হলুদ কার্ডও দেখানো হয়নি। অথচ বসনিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের ফাউলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগানকে ভিএআর রিভিউয়ে লাল কার্ড দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদনে মেসির এই উদাহরণ টেনে এনেছিল। যদি মেসি লাল কার্ড পেতেন, তাহলে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় গোল, অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল এবং জর্ডানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের গোল—মোট ৫টি গোল হতো না। বর্তমানে টুর্নামেন্টে মেসির গোল সংখ্যা ৮টি।

হলুদ কার্ডের বৈষম্য

পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনার প্রতি রেফারিরা নমনীয় আচরণ করছেন। আর্জেন্টিনা প্রতি ১৯.৭টি ফাউলে ১টি হলুদ কার্ড পাচ্ছে, যেখানে ইংল্যান্ড প্রতি ৭.৭টি ফাউলে ১টি হলুদ কার্ড পাচ্ছে। চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের চেয়ে আর্জেন্টিনা বেশি ফাউল করলেও কার্ড পেয়েছে অর্ধেক। বর্তমানে টুর্নামেন্টের ১৭ জন খেলোয়াড় আর একটিমাত্র হলুদ কার্ড পেলেই সেমিফাইনালে খেলা থেকে বঞ্চিত হবেন। আর্জেন্টিনার কেবল গঞ্জালো মন্তিয়েল এই ঝুঁকিতে আছেন, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের চারজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় (জুড বেলিংহাম ও ডেক্লান রাইসসহ) এই ঝুঁকিতে রয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পেনাল্টির রেকর্ড

২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৫টি পেনাল্টি পাওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপেও পেনাল্টি পাওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে আর্জেন্টিনা। চলতি আসরে তারা ইতোমধ্যেই ৩টি পেনাল্টি পেয়েছে, যদিও অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিরুদ্ধে ২টি পেনাল্টি মেসি মিস করেছেন। ইংল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ড পেয়েছে ২টি করে, বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও নরওয়ে পেয়েছে ১টি করে পেনাল্টি।

আগামী চ্যালেঞ্জ

এখন আর্জেন্টিনাকে মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই প্রমাণ করতে হবে যে তারা কেবল ভাগ্যের জোরে নয়, বরং নিজেদের যোগ্যতায় বিশ্বসেরা। থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড বা আর্লিং হালান্ডের নরওয়েকে টপকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের পথ পাড়ি দিতে হলে আর্জেন্টিনাকে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।