বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সংঘর্ষ এড়াতে বড় পর্দায় নজরদারি বাড়াচ্ছে ডিএমপি
বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সংঘর্ষ এড়াতে বড় পর্দায় নজরদারি

ফুটবল বিশ্বকাপের জয়-পরাজয়কে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। অনেক সময় তা বাকবিতণ্ডা, মারামারি এমনকি হত্যাকাণ্ডেও গড়ায়। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি করবে থানা-পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এ কথা জানান। রাজধানীর আদাবরে ব্রাজিলের খেলা ঘিরে সমর্থকদের সংঘর্ষের জেরে বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করে ডিবি। এ বিষয়ে জানাতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখা হয়। আমরা সেগুলো নজরদারিতে রেখেছি। ডিএমপির সব থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথায় কোথায় এ ধরনের স্ক্রিন রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারাও লোক রাখবে, আমরাও লোক রাখবো। যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আনন্দটা যেন আনন্দের মধ্যেই থাকে, কোনো বিষাদে পরিণত না হয়। আমরা পরস্পরের প্রতি সহনশীল হব। প্রতিপক্ষকে মেনে নেব। খেলায় হার-জিত থাকবে। আমরা আনন্দ করবো, তবে অন্য পক্ষকেও সেই সুযোগ দিতে হবে।’

আদাবরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা

ডিবি জানায়, গত ৩০ জুন ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের খেলা শেষে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ করছিল। এ সময় হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিরব নামে এক যুবককে মারধর করেন। ওই ঘটনার জেরে গত ১ জুলাই রাতে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় বিএনপির ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতার ও উদ্ধার

এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ময়মনসিংহ থেকে নিরব, রিপন, মজনু ও মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে ডিবির তেজগাঁও বিভাগ। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের মধ্যে রিপন সরাসরি ছুরিকাঘাত করে। গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করেছে ডিবি।

এদিকে আদাবর থানা পুলিশের অভিযানে বাদশা হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অপরদিকে আদাবর থানা ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশা হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত মো. সুমনকে (২৫) জামালপুর এবং হুকুমদাতা মো. শহীদকে (৫৯) ময়মনসিংহ জেলা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-২। ফলে বাদশা হত্যা মামলায় মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।