উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ যখন প্রতি মুহূর্তেই নতুন নতুন রূপকথার জন্ম দিচ্ছে, ঠিক তখনই ফুটবল বিশ্ব সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক আবেগের মহাসমুদ্রের। একদিকে ৯২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে ফারাওদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন, অপরদিকে এশিয়ান কাপের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার স্বপ্ন। দুই ভিন্ন মহাদেশের এই দ্বৈরথকে ঘিরে মেক্সিকোর গ্যালারি এখন ফুটবল উন্মাদনায় টালমাটাল।
মিশরের ইতিহাসের পাতা উল্টানো
মিশরের জন্য এই ম্যাচটি যেন সময়ের চাকা পেছনে ঘুরিয়ে ইতিহাসকে নতুন করে লেখার এক মহাকাব্য। ১৯৩৪ সালে ইতালির মাটিতে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে হাঙ্গেরির কাছে হেরে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল, মিশরের বর্তমান সোনালী প্রজন্ম সেই ক্ষততে প্রলেপ দিতে মরিয়া। মোহামেদ সালাহদের উত্তরসূরিরা এবার মেক্সিকোর মাটিতে নতুন রূপকথা লিখতে প্রস্তুত।
অস্ট্রেলিয়ার শক্তিমত্তা
অপরদিকে, সকারুজ বা অস্ট্রেলিয়া এই ম্যাচে নামছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সমীকরণ নিয়ে। শারীরিক ফুটবল এবং কাউন্টার অ্যাটাকে পারদর্শী অস্ট্রেলিয়া কখনোই মিশরকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। দুই দলের এটিই প্রথম কোনও অফিশিয়াল বা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হওয়ায়, রণকৌশলের দিক থেকে দুই কোচই একে অপরকে চমকে দিতে চাইবেন— তা বলাই বাহুল্য।
বিবিসির বিশ্লেষণ
বিবিসি স্পোর্টসে বলা হয়েছে, “মিশরের জন্য এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, এটি এক শতাব্দীর আবেগ। ১৯৩৪ সালের পর এই নকআউট মঞ্চে আসা প্রমাণ করে আমাদের ফুটবলের পুনর্জাগরণ ঘটেছে। তবে অস্ট্রেলিয়া অত্যন্ত গোছানো দল, মাঠের লড়াইয়ে আমাদের প্রতিটি সেকেন্ডে সতর্ক থাকতে হবে।”
রোমাঞ্চকর রাতের অপেক্ষা
রাত ১টায় যখন রেফারি বাঁশিতে ফুঁ দেবেন, তখন মমি আর পিরামিডের দেশের কোটি ফুটবল ভক্তের চোখ থাকবে টেলিভিশনের পর্দায়। ৯২ বছরের সেই দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে মিশর কি পারবে সকারুজদের হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখতে, নাকি ক্যাঙ্গারুর দেশ অস্ট্রেলিয়াই শেষ হাসি হাসবে—তার উত্তর দেবে মেক্সিকোর এই রোমাঞ্চকর রাত।



