ক্রীড়াবিদদের পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ: মাসিক এক লাখ টাকা ভাতা শুরু
ক্রীড়াবিদদের পেশা প্রতিষ্ঠায় মাসিক এক লাখ টাকা ভাতা শুরু

ক্রীড়াবিদদের পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী উদ্যোগ

খেলাধুলাকে কেবল শখ বা বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন, যার অধীনে ক্রীড়াবিদরা মাসে এক লাখ টাকা পাবেন। এই উদ্যোগে খেলোয়াড়রা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন, যা ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্তের সূচনা করছে।

খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া: স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে মিশ্র বিভাগে রৌপ্য পদকজয়ী খই খই মারমা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসলে ভাবতে পারিনি মাসে এত বেতন পাবো। এটা প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য খুশির ব্যাপার।’ তার সাথে মিশ্র বিভাগে পদকজয়ী আরেক টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদও সরকারের এই মাসিক ভাতার কারণে এখন খানিকটা নির্ভার। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক দিনের চাওয়া ছিল পেশা হিসেবে খেলাকে নিতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটা ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে। ক্রীড়াঙ্গনের ফলাফল বদলে দেবে। আমরা এটা এখন পেশা হিসেবে নিতে পারবো। আগে পিছু টান ছিল। এই জায়গাটা এখন আর থাকছে না।’

পারফরম্যান্স ভিত্তিক মূল্যায়ন ও প্রতিযোগিতা

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ প্রতি চার মাস পর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করবে। যারা ভালো পারফরম্যান্স করতে পারবেন না, তারা এই ভাতার আওতা থেকে বাদ পড়ে যাবেন, এবং নতুন খেলোয়াড়রা সুযোগ পাবেন। খই খই মারমা মনে করেন, ‘তিন চার মাস পর যেহেতু পরিবর্তন হবে ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে। আমরা যারা এই পর্যায়ে আসছি, আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করবো।’ এই ব্যবস্থা ক্রীড়াঙ্গনে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা দূরীকরণ

দুই দিন আগে থাইল্যান্ডে কম্পাউন্ড দলগত বিভাগে স্বর্ণ পদক জয়ী আর্চারি দলের সদস্য হিমু বাছাড় বলেন, ‘ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় কেউ আসতে চায় না। এখন ক্রীড়াবিদরা একটা ভাতার আওতায় আসায় অনেকেই তার পছন্দ অনুযায়ী খেলায় আসবে। বেশ দারুণ উদ্যোগ।’ নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও একমত পোষণ করে বলেন, ‘এখন যে কেউ খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে। তাকে খেলার পাশাপাশি অন্য কোনও চিন্তা করতে হবে না। পরিবারও তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় থাকবে না।’

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের অন্তর্ভুক্তি

সুস্থ-স্বাভাবিক ক্রীড়াবিদদের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ক্রীড়াবিদরাও এই ভাতার আওতায় রয়েছেন। প্যারা অ্যাথলেট শহীদ উল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের জীবনযাপন অন্য রকম। চলাফেরা ও অনেক কিছুতেই খরচ বেশি। খেলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা রয়েছে। সরকার আমাদের ভাতা দিচ্ছে এজন্য অত্যন্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগ সাধুবাদ জানাই।’ এই উদ্যোগে সকল শ্রেণির ক্রীড়াবিদদের সমান সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে, যা সামগ্রিক ক্রীড়া উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।