ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সভা
নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী একটি সভা করেছেন। এই সভায় তিনি ফেডারেশনগুলোর সমস্যা ও চাহিদা সম্পর্কে বিস্তারিত শুনেছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। প্রতিমন্ত্রী ফেডারেশনগুলোর কাছ থেকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে একটি বিশদ রিপোর্ট চেয়েছেন, যা গত এক বছরের ক্রীড়া কার্যক্রমের মূল্যায়ন করবে।
রিপোর্টে কী থাকবে?
আমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত এক বছরে বাংলাদেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রের সফলতা, ব্যর্থতা, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও অভাবগুলো চিহ্নিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করতে বলেছি। ফেডারেশনগুলো আশ্বস্ত করেছে যে তারা ৭ দিনের মধ্যে এই রিপোর্ট পেশ করবে।’ এই রিপোর্টের মাধ্যমে প্রতিটি ফেডারেশনের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সংগঠনগত সংস্কার
বর্তমানে অধিকাংশ ফেডারেশন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা, বিভাগীয় ও ফেডারেশন পর্যায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি স্থায়ী কাঠামো গড়ে তুলতে চাই। এটি একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, তবে দ্রুতই সংশ্লিষ্টদের কাছে পরিকল্পনা পৌঁছে দেওয়া হবে।’ তিনি ৫১টি ফেডারেশন নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি একই ধরনের খেলাগুলোকে একত্রিত করার কথাও উল্লেখ করেছেন।
খেলার সামগ্রী করমুক্তকরণ ও অর্থায়ন
সভায় খেলার সামগ্রী করমুক্ত করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা এনবিআর, অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে খেলার সামগ্রীতে ট্যাক্স হ্রাস বা মুক্ত করার চেষ্টা করব। পাশাপাশি, স্পন্সরদের সিএসআর ফান্ড কীভাবে ক্রীড়া উন্নয়নে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামো ও বার্ষিক ক্যালেন্ডার
প্রতিমন্ত্রী খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেসব খেলোয়াড় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনে, তাদের একটি ন্যায্য বেতন কাঠামো দেওয়া হবে। ফেডারেশনগুলোকে খেলোয়াড়দের তালিকা দেওয়ার জন্য বলেছি, যাতে ঈদের পর আমরা এটি বাস্তবায়ন করতে পারি।’ এছাড়া, ফেডারেশনগুলোর বার্ষিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডার স্বচ্ছতার সঙ্গে পেশ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুনকুঁড়ি স্পোর্টস কর্মপরিকল্পনা
আমিনুল হক ‘নতুনকুঁড়ি স্পোর্টস’ নামে একটি উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন, যা ঈদের পরপরই শুরু হবে। এই কর্মপরিকল্পনার আওতায় অনূর্ধ্ব ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে সকল ক্রীড়ার সমান সুযোগ থাকবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করবে।’
সভায় অংশগ্রহণকারী ফেডারেশন প্রতিনিধিরা প্রতিমন্ত্রীর পরিকল্পনাগুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এই উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
