আবাহনী ক্লাবের অবস্থা সুখকর নয়, পরিদর্শনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
আবাহনী ক্লাবের অবস্থা সুখকর নয়, পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

সরকার পরিবর্তনের পর দেশের ঐতিহ্যবাহী আবাহনী লিমিটেডের অবস্থা খুব একটা সুখকর নয়। ক্লাব কমপ্লেক্সের কাজ থেমে আছে, দৃশ্যমান অবকাঠামোও বিবর্ণ হতে শুরু করেছে। চুরি হয়ে গেছে অনেক ট্রফি! আর ক্লাবের কার্যক্রমও চলছে অনেকটা ঢিমেতালে। যদিও ক্রিকেট ও ফুটবলে দল গড়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতা কিছুটা বজায় রয়েছে, তবু পরিচালকদের অনেকেই বিভিন্ন কারণে নিয়মিত আসছিলেন না।

এই প্রেক্ষাপটে আজ শনিবার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক; যিনি একসময় এই ক্লাবের তারকা খেলোয়াড় ছিলেন, পরিদর্শনে এসে সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছেন। ভবিষ্যতে ক্লাবকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও জার্সি পেয়ে আবেগাপ্লুত আমিনুল বলেন, ‘আগামীতে আবাহনী ক্লাব এবং বাংলাদেশের অন্যান্য ক্লাবগুলো রাজনীতির বাইরে গিয়ে, কোনও রাজনীতিকরণের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। ইনশাল্লাহ, তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক ও ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এরপর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ফুটবলের ঐতিহ্য মূলত মোহামেডান এবং আবাহনীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এই ঐতিহ্য যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক কারণে ভবিষ্যতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। অতীত নিয়ে না ভেবে আমরা সামনে এগোতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ভুল না হয় এবং আবাহনী স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে পারে।’

ক্লাবের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ক্লাবগুলো বেঁচে থাকুক, কারণ ক্লাব টিকলে খেলোয়াড়রা টিকে থাকে। ক্লাব দুর্বল হলে খেলোয়াড়রাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন, তা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। আমরা খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতি দিয়ে ক্রীড়া ভাতা চালু করেছি। ইতোমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে এই ভাতার আওতায় আনা হয়েছে এবং নতুন অর্থবছরে তা ৫০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘২ মে সিলেটে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস একযোগে দেশের ৬৪ জেলায় উদ্বোধন করবেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আমি বিশ্বাস করি, আবাহনী তাদের ঐতিহ্য ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্লাবটির প্রতি সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো ক্লাব রাজনীতিকরণের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ খেলোয়াড়দের বকেয়া পারিশ্রমিকের বিষয়টিও নজরে এসেছে বলে জানান আমিনুল। তিনি বলেন, ‘আজ এখানে মোহামেডানের কর্মকর্তা লোকমান ভাই উপস্থিত আছেন। আর্থিক সংকটের কারণে অনেক ক্লাব খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দিতে পারছে না—এ বিষয়গুলো আমাদের নজরে এসেছে। আবাহনী দিয়ে শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে মোহামেডান, বসুন্ধরা কিংসসহ দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। খেলোয়াড় ও ক্লাবের সমন্বয়ে যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব হয়, সে বিষয়ে আমরা সহযোগিতা করবো।’

আবাহনীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ক্লাবের নিজস্ব সম্পদগুলো কাজে লাগিয়ে যেন তারা স্বাবলম্বী হতে পারে, সে বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও আমরা কাজ করবো। এখানে উপস্থিত তান্না ভাই, পিন্টু ভাই, মামুন ভাইসহ সংশ্লিষ্টদের বলেছি—আপনারা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করুন, আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।’

এ সময় ক্লাব পরিচালক তানভীর মাযহার তান্না, অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বশির আহমেদ মামুন, ফাহিম সিনহা, বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল সহ আবাহনীর সাবেক খেলোয়াড় ইকবাল হোসেন, আব্দুল গাফফার, মাহবুব হারুন, জাকির হোসেন সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।