কক্সবাজারে মাদ্রাসায় দেয়াল ধসে ৫ ছাত্রী নিহত, শিক্ষক বেঁচে গেলেন অলৌকিকভাবে
কক্সবাজারে মাদ্রাসায় দেয়াল ধসে ৫ ছাত্রী নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং (ক্যাম্প-৫) আশ্রয়শিবিরের একটি হেফজখানায় (মাদ্রাসা) দেয়াল ও মাটি ধসে পাঁচ রোহিঙ্গা ছাত্রী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত আটজন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার বেলা তিনটার দিকে। অল্পের জন্য বেঁচে যান ওই হেফজখানার ২২ বছর বয়সী শিক্ষক বেগম জাহান।

ঘটনার বিবরণ

বেগম জাহান জানান, তিনি তখন ২০ জন ছাত্রীকে পবিত্র কোরআন পড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘরের ওপর মাটির স্তূপ ও ইটের টুকরা চাপা পড়ে। তিনি ও কয়েকজন ছাত্রী পশ্চিম পাশের খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসেন। পূর্ব পাশের দুটি দরজা চাপা পড়ায় অনেকে বের হতে পারেনি। সেখানেই পাঁচজন মারা যায় এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়।

হতাহতের সংখ্যা

উদ্ধারকারীরা জানান, নিহত পাঁচ ছাত্রীর বয়স ৯-১৫ বছর। তাদের মধ্যে রাশেদা বেগম (১৩), উন্মে নেজাতুল (১৩), উন্মে সালমা (১২), উমাইসা বিবি (১৩) ও শহিদা বেগম (১১) কে শিবিরের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। গুরুতর আহত আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয় আরও অন্তত ১৪ জনকে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধার তৎপরতা

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় রোহিঙ্গারা এগিয়ে আসে। তারা বিধ্বস্ত ঘর সরিয়ে ১০-১৫ জন মেয়েকে উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে।

শিক্ষকের বক্তব্য

বেগম জাহান বলেন, ‘আল্লাহর রহমত ছিল বলে প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে কল্পনাও করিনি। মাটিচাপা পড়া মেয়েদের কথা ভুলতে পারছি না। ঘটনার কয়েক মিনিট আগেও তারা পবিত্র কোরআন পড়ছিল। আর সেভাবেই চলে গেল। তাদের মুখ চোখে ভাসছে।’

পূর্বের ঘটনা

এর আগে গত রোববার দিবাগত রাতে উখিয়ার বালুখালী, জামতলী ও কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী শিশুসহ অন্তত আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। আহত হন আরও ১০ জন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের পদক্ষেপ

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ইতিমধ্যে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনা হয়েছে। আরও কয়েক হাজারকে সরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ভূমিধসে প্রাণহানি রোধে প্রতিটা ক্যাম্পে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।