সরকারি বেতন পাচ্ছেন ১২৯ ক্রীড়াবিদ, প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন ৩০ মার্চ
১২৯ ক্রীড়াবিদ পাবেন সরকারি বেতন, প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন

সরকারি বেতন পাবেন ১২৯ জন জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ

জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আগামী ৩০ মার্চ সকাল ১০টায় এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম ধাপে মোট ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে এই ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে, যা দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা

শনিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, 'শুধু জাতীয় পর্যায়ে যারা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তারাই এই বেতন পাবেন।' এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সেরা ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা এবং তাদের ক্রীড়া জীবনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

পারফরম্যান্স ভিত্তিতে তালিকা পর্যালোচনা

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন যে, প্রতি চার মাস পর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, 'তারা যদি তাদের সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখে, তারা কন্টিনিউ করবে। যদি কেউ পারফরম্যান্স থেকে সরে যায়, তখন তারা বাদ পড়ে যাবে।' এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে যে শুধুমাত্র সক্রিয় এবং উচ্চ পারফরম্যান্স প্রদর্শনকারী ক্রীড়াবিদরাই এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্ত ক্রীড়া শাখাগুলো

প্রথম ধাপে মোট ১৫টি ক্রীড়া শাখার ক্রীড়াবিদরা এই সরকারি বেতনের আওতায় আসছেন। এই শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্চারি, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, ভারোত্তোলন, উশু, প্যারা অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সেপাক তাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, বাস্কেটবল, ব্রিজ এবং ফুটসাল। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রাথমিক তালিকায় ক্রিকেটার এবং ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্রিকেটার ও ফুটবলার বাদ রাখার কারণ

ক্রিকেটারদের এই তালিকা থেকে বাদ রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, 'ক্রিকেটাররা অত্যন্ত আর্থিকভাবে সচ্ছল। তাদের বিষয় নিয়ে আমরা পরবর্তীতে ভাবব। আমরা আপাতত যেসব ক্রীড়াবিদ অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে আছেন, তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চাই।' এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো তুলনামূলকভাবে কম আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের সহায়তা করা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে আরও ক্রীড়াবিদদের তালিকা করা হবে। এই উদ্যোগটি ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ ক্রীড়াবিদদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং ক্রীড়া সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।