ট্রাম্পের নতুন ভিসা নীতিতে বিশ্বকাপের পাঁচ দেশের উদ্বেগ, আলোচনা চলছে
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র তিন মাসেরও কম সময়। কিন্তু এর মধ্যেই কূটনৈতিক টানাপোড়েন তুঙ্গে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নতুন করে কিছু দেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই বিধিনিষেধ পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে একাধিক দেশ আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে, ফলে তাদের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের জন্য ভিসা পাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নতুন ভিসা বন্ড নীতির বিস্তারিত
এএস স্পোর্টসের খবরে বলা হয়েছে, আগামী ২ এপ্রিল থেকে একটি নতুন তালিকা কার্যকর হবে। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের বি১/বি২ ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত জামানত বা ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে। তালিকায় মোট ৫০টি দেশ রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি দেশ আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে খেলবে। এই নিয়ম নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে, কারণ এটি তাদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রভাবিত দেশগুলো
এই বিধিনিষেধের আওতায় থাকা এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো—আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট ও তিউনিসিয়া। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাধ্যতামূলক ভিসা সাক্ষাৎকারের পর আবেদনকারীদের জন্য জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করবে। এই পাঁচটি দেশের খেলোয়াড় ও কর্মীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া এখন অনিশ্চয়তার মুখে, যা বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ ও ফিফার আলোচনা
মার্কিন গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ফিফার মধ্যে জরুরি আলোচনা চলছে। লক্ষ্য হচ্ছে—এই পাঁচ দেশের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও অফিসিয়াল প্রতিনিধিদের জন্য ভিসা বন্ডের শর্ত কিছুটা শিথিল করা। তবে তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুবিধা দেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই, যা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পূর্ববর্তী প্রবেশাধিকার ও বর্তমান পরিস্থিতি
যদিও এই নতুন নীতি চালুর আগেই সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের মতো দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বেশ কঠিন ছিল। সাধারণত বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া ভিসা দেওয়া হতো না। নতুন আর্থিক শর্ত যুক্ত হওয়ায় তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়ে উঠতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তন বিশ্বকাপের আয়োজনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায়কে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে একটি অপ্রত্যাশিত বাধা সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পাশাপাশি ফিফাও এই ইস্যুতে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে, যাতে বিশ্বকাপ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে। ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা এখন সবার নজরে রয়েছে।



