ইরানের নারী ফুটবলারদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাহার: দেশে ফিরলেন পাঁচ সদস্য
অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চেয়েও শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্য। এশিয়ান কাপ মিশন শেষে অবশেষে জাতীয় দলের সঙ্গে তারা বুধবার তুরস্ক সীমান্ত পার হয়ে নিজ দেশ ইরানের মাটিতে পা রেখেছেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আশ্রয় আবেদনের পেছনের কারণ
ইরানের ছয়জন খেলোয়াড় ও একজন সাপোর্ট স্টাফকে মানবিক দিক বিবেচনায় আশ্রয়ের জন্য ভিসা দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সম্ভাব্য নিপীড়নের কথা মাথায় রেখেই তারা অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চেয়েছিলেন। মূলত চলতি মাসের শুরুতে নারী এশিয়ান কাপের একটি ম্যাচে কয়েকজন খেলোয়াড় জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দেয়। তার পরই নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগতে থাকেন আশ্রয়প্রার্থীরা। পরে অবশ্য সেই আবেদন প্রত্যাহার করে নিজ দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন পাঁচজন।
দেশে ফেরার যাত্রা
ইরান জাতীয় নারী দলটি মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর পর বুধবার সকালে তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের ইগদিরে উড়োজাহাজে পৌঁছায়। ইগদির বিমানবন্দর থেকে খেলোয়াড়রা লাগেজ হাতে বেরিয়ে টার্মিনালের সামনে কিছুক্ষণ কথা বলেন। পরে তারা সীমান্তের উদ্দেশ্যে একটি বাসে ওঠেন। বাস ছাড়ার আগে তাদের একজন সংক্ষিপ্তভাবে হাসি দিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার দিকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। প্রায় দুই ঘণ্টার যাত্রা শেষে তারা গুরবুলাক সীমান্ত চৌকিতে পাসপোর্ট সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইরানে প্রবেশ করেন।
টুর্নামেন্টের প্রেক্ষাপট
এখানে উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্যেই দলটির এশিয়ান কাপ অভিযান শুরু হয়েছিল। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। আর ইরান এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। গত সপ্তাহে সিডনি ছাড়ার পর দলটি কুয়ালালামপুরে অবস্থান করছিল। সেখানেই আশ্রয়প্রার্থীরা দলের বাকিদের সঙ্গে যোগ দেন। ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, যারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন, তারা দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেশে ফিরবেন। যাতে তারা আবারও পরিবারের সান্নিধ্যে ফিরতে পারেন।
বর্তমান অবস্থা
তবে দলের দুই খেলোয়াড় এখনও অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন। স্থানীয় এ-লিগ ক্লাবের সঙ্গে তাদের অনুশীলন করতে দেখা গেছে। এই ঘটনা ইরানের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির জটিলতা তুলে ধরেছে। আশ্রয় আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি নারী ফুটবলারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
